১৮ মার্চ ২০২৬

নিরাপদ পরিবেশের এই বিশ্বস্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য অর্জন- রকিবুল আলম

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

নিরাপদ এবং উন্নত পরিবেশে পোশাক উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক নৈতিক মান নিরীক্ষা (এথিক্যাল অডিট) সূচকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ওপরে অর্থাৎ প্রথম অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম তৃতীয় এবং চীন সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।

তৈরি পোশাকের সরবরাহ চেইনে কমপ্লায়েন্সসহ সব ধরনের সেবা প্রদানকারী চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিউআইএমএর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই উন্নয়ন দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাক কারখানার নিরাপদ পরিবেশ এবং সরবরাহ চেইনে দায়িত্বশীলতা বিবেচনায় বাংলাদেশের পোশাক খাত এখন প্রথম সারির।

উদ্যোক্তারা মনে করছেন, দেশের পোশাক খাতের বড় দুই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বাড়াবে। ফলে আগামীতে পোশাকের মূল্য নিয়ে দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপের ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড এবং উত্তর আমেরিকার জোট অ্যালায়েন্সের সহযোগিতা এ সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।

কোনো কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ে এথিক্যাল অডিট পরিচালনা করে কিউআইএমএ। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, ছুটিসহ অন্যান্য সুবিধা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তার ভিত্তিতে এ নিরীক্ষা করা হয়। কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড় এথিক্যাল অডিটে সূচকে ১০ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ দশমিক ৭। তাইওয়ান ৮ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। ভিয়েতনাম পেয়েছে ৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট। চীনের অর্জিত পয়েন্ট ৭ দশমিক ৩। সূচকে ভারতের অবস্থান অষ্টম।

কিউআইএমএ সরবরাহ চেইনে কমপ্লায়েন্সসহ সব ধরনের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ড এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সেবা সরবরাহ করে থাকে। ৮৫ দেশে কিউআইএমএর স্থানীয় অফিস রয়েছে। এসব অফিসের মাধ্যমে ১২০টি দেশের ব্র্যান্ড, ক্রেতা এবং উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

কিউআইএমএর স্বীকৃতির সমর্থন পাওয়া যায় মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির এক প্রতিবেদনে। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার নিরাপদ পরিবেশ ও সরবরাহ চেইনে দায়িত্বশীলতা বিবেচনায় বাংলাদেশের পোশাক খাত এখন প্রথম সারির। অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও দেশীয় উদ্যোগ প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্ম আরএসসির ভূমিকায় এ অগ্রগতি হয়েছে। পোশাক ব্র্যান্ড এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্রয় কর্মকর্তাদের (সিপিও) মতামতের ওপর ম্যাকেঞ্জির সর্বশেষ জরিপের প্রসঙ্গ এনে প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে সিপিওদের কাছে বাংলাদেশ সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন, উৎপাদন ও নিরাপদ পরিবেশের এই বিশ্ব স্বীকৃতি বাংলাদেশের একটি অনন্য অর্জন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বাড়বে। এ অর্জন রপ্তানি আদেশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা ও সরকারের সহযোগিতায় এই উন্নয়নে বড় অবদান রেখেছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন