৩১ মার্চ ২০২৬

নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় মিলেছে

বাংলাধারা ডেস্ক »

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ১৭ জনের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।তারা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোরাাদ এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসূফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২)। নিহতেদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা ।

১৭ নিহতের সঙ্গে যোগ হয়েছে একটি শিশু। তাই সংখ্যাটি সব মিলে এখন ১৭। শিশুটির কোমল দেহটা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। শিশুটি ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না, মরদেহ এমনই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার(১২ নভেম্বর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে শিশুটির খোঁজ মেলে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোরে কসবা উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে তুর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। তুর্ণা নিশীথা ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। আর উদয়ন এক্সপ্রেস যাচ্ছিল সিলেট থেকে চট্টগ্রামে।ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের বেশ কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি বগি প্রায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। হতাহতদের বেশিরভাগই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনের তিনটি বগির যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া শরিফুল নামে এক যাত্রী দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ট্রেনের প্রায় সব যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে সবার। চোখ খুলেই দেখেন চারপাশে লণ্ডভণ্ড। ট্রেনের যাত্রীরা বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছেন। অনেক জায়গায় হতাহতদের রক্ষের ছাপ। যারা বেঁচে আছেন তাদের অনেকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ বের হতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। সে এক বীভৎস দৃশ্য।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল ও কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বগির নিচে আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হতাহতদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজে কোন ধরণের ত্রুটি থাকবে না। ইতোমধ্যে আহত ৪০ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ শনাক্তের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন