বাংলাধারা ডেস্ক »
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান (রাফি) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ চার আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেছেন।
সোমবার (২ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল এ আপিল দায়ের করেন।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—নুরুদ্দিন, জাবেদ হোসাইন ও উম্মে সুলতানা পপি। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ছয় মাসের মধ্যে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সোনাগাজী মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল আমিন, মাদ্রাসার প্রভাষক আফছার উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আবদুল কাদের, ছাত্র নুরুদ্দিন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, মো. শামীম, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, আবদুর রহিম শরীফ, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন্নাহার মনি, শাহাদাত হোসেন শামীম।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজের লোকজন নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে থাকে। এরপরেও না তুলে নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরকাপরা পাঁচজন। পরে গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












