২৭ মার্চ ২০২৬

পকেটে গাঁজা দিয়ে যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ!

রাঙামাটি প্রতিনিধি  »

রাঙামাটি শহরে নীরহ লোককে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে আটক করার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনকে কোতয়ালী থানা চত্বরে ঘেরাও করে রেখেছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার (০৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি মাদক অফিসের এসআই জসিম উদ্দিন নিজ থেকে গাঁজা দিয়ে শহরের মালিপাড়া এলাকার বাসিন্দা জনৈক খোকনকে আটক করে নিয়ে আসতে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা খোকনকে নীরহ দাবি করে তাকে আটক না করার জন্য অনুরোধ করলেও এসআই জসিম উদ্দিন খোকনকে কোতয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এসময় স্থানীয় বাসিন্দরা শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় তাদের গতিরোধ করে বিক্ষোভ করে। এদিকে রাত আটটার দিকে নিজেদের গাড়িতে তুলে খোকনকে কোতয়ালী থানা নিয়ে গেলে তার প্রতিবেশী ও স্বজনরা কোতয়ালী থানায় গিয়ে মাদকের গাড়ি ঘেরাও করে রাখে। এলাকাবাসী জানায়, চলমান লকডাউনে মানুষ ভাত খেতে পারছে না সেখানে গাঁজা কিনবে কি করে। আর আমরা সকলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং সকলেই মালির কাজ করি। স্বল্প বেতনে যেখানে বেঁচে থাকতে পারছি না সেখানে মাদক কই পাবো। এসআই জসিম নীরহ লোকজনকে ধরে ধরে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে থানায় দিচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই এসআই জসিমের বিচার চাই।

আটককৃত খোকনের দাবি, সন্ধ্যায় প্রচন্ড বৃষ্টি হওয়ার সময় আমি পৌরকলোনীর সামনের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এসময় আকস্মিকভাবে তিনজন লোক এসে আমাকে ধরে মারধর করতে থাকে এবং পুরো শরীর চেক করেও কিছু পায়নি। এসময় লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে একজন একটি পুটলা বের করে বলে এইতো এটা তোর কাছ থেকে পাইছি। এসময় তাকে ঘুষি মারার পাশাপাশি গলা চিপে ধরে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

পৌরকলোনীর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহী ইনসান নিজেই পকেট থেকে গাঁজা বের করে খোকনের কাছ থেকে পেয়েছে বলে জানায়। এসময় এসআই জসিম খোকনে বেদড়ক মারধর করতে থাকে। বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেই এলাকাবাসী ক্ষেপে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনকে ঘিরে ফেলে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। জোর করে খোকন কে গাড়িতে তুলে থানায় নিলে শতাধিক এলাকাবাসী থানার সামনে অবস্থান করে খোকনকে ছাড়ার দাবিতে মাদক অফিসের গাড়ি আটকিয়ে রাখে।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন জানিয়েছেন, কি জন্য বিক্ষোভ হচ্ছে সেটি আমরা জানি না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন একজনকে ধরে এনেছে তাকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাদক অফিস কর্তৃক পৌরকলোনীতে অভিযানের সময় কোনো পুলিশ সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়নি। অনেক পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেছে।

এদিকে, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করলে ম্যাজিষ্ট্রেট এবং পুলিশকে সাথে নিয়ে অভিযান করার জন্য জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত হলেও সেই সিদ্ধান্ত না মেনে রাঙামাটির মাদক নিয়ন্ত্রণ অফিস কর্তৃপক্ষ শহরে এ পর্যন্ত একাধিক অভিযান চালিয়েছে যেগুলো নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বুধবারের অভিযান অফিসের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করা হয়নি বলে থানার সামনেই এসআই জসিমের উপর ক্ষিপ্তহন মাদক অফিসের ওসি শিবনাথ চক্রবর্তী। এসময় তাকে বলতে শুনা যায়, বারংবার এই ধরনের বিতর্কিত অভিযান চালানোয় মানুষের রোষানলে পড়তে হচ্ছে তাদেরকে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন