২১ মার্চ ২০২৬

পরিবহন ধর্মঘট ডেকে দেশকে অচল করার ষড়যন্ত্র চলছে: ক্যাব

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

সদ্য বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাওয়া সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে ভীতি সঞ্চার ও পরবর্তীতে অঘোষিত ভাবে দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘট ডেকে দেশকে অচল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলে প্রকাশ্যে বাধা প্রদান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশে গণপরিবহন সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্ঠিতে উস্কানী প্রদানের জন্য অঘোষিত গণপরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার, এ ধরনের রাষ্ট্র বিরোধী ককর্মকান্ডে জড়িতদের কঠিন ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনকারী প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (২০ নভেম্বর) সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান উপরোক্ত দাবি জানান।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেছেন, চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহল গণপরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদবাজি অব্যাহত রাখতে দেশবাসীকে জিম্মিকরে বারবার এ ধরণের ষডযন্ত্রমুলক কাজে জড়িত হলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এই মহলটি জনগণের বহুল প্রত্যাশিত নতুন সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে আইন বাস্তাবায়নে বাধা দিচ্ছে। এই মহলটি গণপরিবহন সেক্টরে চাদাঁবাজি, নৈরাজ্য সৃষ্ঠিতে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম হাছিল করে আসছিল। নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়িত হলে তাদের সেই অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ হওয়ার আশংকায় নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে এই অবৈধ ঘর্মঘট ও কর্মবিরতি আহবান করেছে।

বিবৃতিতে আরও নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে অত্যুধিক প্রণোদনা দেবার কারনে তাঁরা বারবার জনগনকে জিম্মি করে এ ধরনের অবৈধ ধর্মঘট ও কর্মবিরতি আহবানসহ আইন প্রয়োগে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বারবার বাঁধা দিলেও সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পুরস্কার হিসাবে তাদেরকে মন্ত্রী, এমপি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা বানাচ্ছে আর এ খাতে অন্যতম অংশীজন ভোক্তারা কোন প্রণোদনাতো দূরের কথা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সদস্যও হতে পারছে না। ফলে সড়কে নৈরাজ্য থামছে না।

সড়ক পরিবহন খাতে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের বেলায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাই মিলে তাদের মতো করে যাবতীয় নীতি প্রণয়ন ও সবগুলি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারন জনগনকে। বিএরআটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া কঠিন, কারন সবকিছুর ওপর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাই সবকিছুর ওপর রাজত্ব করছে। সড়ক পরিবহন খাতে নৈরাজ্য থামাতে হলে ভোক্তা ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সম অংশগ্রহন নিশ্চিত জরুরী।

গণপরিবহন সেক্টরে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ যেকোন দাবি-দাওয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একশ্রেণীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আইন প্রয়োগের আগেই আইন সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্ঠি করে পরিবহন সেক্টর উত্যপ্ত করছে। অথচ এই আইনে ভোক্তাদের কোন অংশগ্রহন বা প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয় নি। দাবি আদায়ের নামে জনগনকে জিম্মি করে জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে দেশকে অচল করার ষড়যন্ত্র থেকে বেড়িয়ে এসে জরুরী ভিত্তিতে কর্মবিরতির নামে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করার আহবান জানান।

বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরাপদ সড়ক ও সড়কে নৈরাজ্য ঠেকাতে গত বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রনয়ণ করেন। পরে সাবেক সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নেতৃত্বে আইন বাস্তবায়নে করনীয় নিয়ে সুপারিশমালা প্রনয়নে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১১১টি সুপারিশ প্রস্তাব করলেও আইন বাস্তবায়নে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা বারবার প্রতিবন্ধকতা প্রদান করছেন যা খুবই দুঃখজনক।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন