পটিয়া প্রতিনিধি »
পটিয়ায় পরিবারের বাধার মুখে লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার শংকায় থাকা একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসানের সহযোগিতায় নতুন করে পড়া লেখার সুযোগ পেয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাবিলসাদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে।
জানা যায়, চরকানাই গ্রামের শ্রবন প্রতিবন্ধী মো: ইদ্রিস এর কন্যা নার্গিস আক্তার পটিয়া হুলাইন ছালেহ নূর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত আছেন। সম্প্রতি তার সৎ মা ও আপন তিন ভাই তাঁর পড়ালেখায় বাধ সাধে। এর জের ধরে গত এক সপ্তাহ যাবত তারা তাকে ঘরে শিকল বন্ধী করে রাখে। গত রবিবার সে কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে হাজির হয়ে তার পড়ালেখা বন্ধ এবং পরিবার কর্তৃক বিভিন্ন ভাবে মানসিক নির্যাতনের বিষয় মৌখিক ভাবে জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় ইউএনও’র কাছে তার বই না থাকার বিষয় ও মেয়েটি তুলে ধরেন।
অফিস শেষে সন্ধ্যায় ইউএনও হাবিবুল হাসান পটিয়া থানার এসআই মাকসুদ সহ একদল পুলিশ নিয়ে প্রথমে মেয়েটিকে তার একাদশ শ্রেণীর প্রয়োজনীয় সব বই কিনে দেন এবং মেয়েটির বাড়িতে যান। সেখানে মেয়েটিকে মানসিকভাবে নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত ভাই আরিফ’কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে মেয়েটি তার ভাইকে ছাড়িয়ে নিতে কান্নায় চোখ ভাসান। পরে মেয়েটির অনুরোধে ভাইকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মেয়েটিকে পড়াশুনায় সবধরনের সহযোগিতা করার জন্য ইউএনও তার পরিবারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, সরকার সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা সবার নাগরিক অধিকার। সবার উচিত শিক্ষাবান্ধব পরিবার ও সমাজ গড়ে তোলা।
তিনি ছোট খাটো বিভেদ ভুলে পরিবারের সবাইকে একে অপরের প্রয়োজনে এগিয়ে এসে নিজের পায়ে নিজেকে দাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। তিনি মেয়েটির নিরাপত্তা বিধানসহ শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: ইদ্রিস ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি এবং মেয়েটির পরিবারকে আন্তরিক ভাবে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। পাশাপশি তিনিও তার পক্ষ থেকে শিক্ষার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












