৩০ মার্চ ২০২৬

পরিবারে করোনা, নওফেলের আবেগঘন স্ট্যাটাস 

বাংলাধারা প্রতিবেদন »  

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এছাড়াও হাসিনা মহিউদ্দিনের বাসার শাকি এবং হারাধন নামে আরো দুই গৃহকর্মীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১০ মে প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

জানা গেছে, গত ১০ মনে সালেহীনের শরীরে করোনা শনাক্ত হবার পর ১১ মে চৌধুরী পরিবারের চট্টগ্রামের বাসা থেকে ৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে তিন জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলো। পাশাপাশি সলেহীনের স্ত্রী, নবজাত সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের ১২ সদস্যের করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। এদিকে মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ঢাকার করোনা পরীক্ষার ল্যাব আইইডিসিআর থেকে পাঠানো রিপোর্টে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, তাঁর স্ত্রী, সন্তান, গাড়িচালক, গানম্যানসহ সবার করোনা ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে পরিবার ও দেশের করোনা রোগীদের জন্য দোয়া চাইলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া আমার পরিবারের সদস্য প্রত্যেককে আলাদা আলাদা রেখে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি দেশের সকল করোনা আক্রান্তদের জন্য দেশবাসী ও মহান সর্বজ্ঞানী’র নিকট দোয়া চেয়ে বলেছেন, কভিড-১৯ ভাইরাস বাংলাদেশে অনেকের সংক্রমণ হয়েছে। আমার আপনার আশেপাশে বন্ধু বান্ধব অনেকেরই হয়েছে, হবে। ইচ্ছে করে কেউ কভিড সংক্রমিত হয় না। এটি যেকোনো কারো হতে পারে। আমাদের পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য দেশের আট দশজনের মতই নির্দেশনা মেনে ঘরেই ছিলেন।

আমার ভাইয়ের কিছুদিন আগে সন্তান জন্ম হয়েছে, তাকে অনেক জায়গায় যাওয়া আসা করতে হয়েছে। কিন্তু সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে, আত্মীয়দের নিরুৎসাহিত করতে, আমরা কারো সাথে নবজাতকের দেখাও করতে দেইনি। কিন্তু জীবনের অনেক প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে গিয়েও অনেকে সংক্রমিত হয়েছেন।

যেহেতু আমাদের পরিবারও দেশের সাধারন মানুষের বাইরে নয়, সুতরাং আমাদের যেকোনো কারো হতে পারে এবং সংক্রমণ হয়েছেও অনেকের। কারো উপসর্গই নেই, তাই পরীক্ষা করাচ্ছেন না, কারো উপসর্গ আছে। নানান সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরও আমরা জানি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীরও হয়েছে, তাদের দেশের যুবরাজেরও হয়েছে, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীরও হয়েছে আরো অনেক মানুষের হয়েছে, ধনী, গরিব, ধর্ম, বর্ণ কেউ বিশেষ আনুকূল্য পাচ্ছেন না।

সুতরাং এই কভিড-১৯ নিয়েই আমাদের বেচে থাকতে হবে। এই সংক্রমণে আমরা শংকিত যেন না হই। কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সংক্রমিতদের প্রতি আমাদের মানবিক হতে, আর সংক্রমণ হলে মনে সাহস রাখতে। তাই আমরা সচেতন থাকবো, শংকিত হবোনা, মনে সাহস রাখবো। হায়াত-মউত সবই আল্লাহর হাতে। এই কভিড-১৯ ভাইরাস কোথাও হঠাৎ উধাও হয়ে যাবেনা। এটি থাকবে, আরো অনেকদিন থাকবে, সংক্রমণের হার কমবে, বাড়বে। এর মধ্যেই আমাদের বেচে থাকতে হবে।

সবাই দোয়া করবেন আমরা যেনো এই মহামারির হাত থেকে রক্ষা পাই, যাদের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে তারা যাতে সুস্থ হন, আমাদের পরিবার নয় শুধু, সমগ্র দেশের সবার জন্য দোয়া করবেন। মানুষের জীবিকা ও জীবন দুটোই যেন রক্ষা পায়, আর এই বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায়৷

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন