বাংলাধারা প্রতিবেদন »
করোনার কারণে ক্রীড়াঙ্গন এখন স্থবির। মাঠে খেলা নেই, ফুটবলারদের রুটি-রুজির প্রধান উৎস ফুটবল বন্ধ। এ অবস্থায় আরিফ, রিপন, মামুন নামের তিন অসহায় ফুটবলারের দায়িত্ব নিলেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিডিএফএ) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফসিএ) সভাপতি, সাইফ পাওয়ারটেকের কর্ণধার তরফদার মো. রুহুল আমিন।
করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরনের ফুটবল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক খেলোয়াড় অসহায় জীবন-যাপন করছেন। এর মধ্যে কারো জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। তাদের মধ্যে আরিফ, রিপন ও মামুন অন্যতম।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঠিক পরিকল্পনার অভাবকেই দায় হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের এ সংগঠক। ফুটবল ছেড়ে ফুটবলারদের ভিন্ন পথ বেছে নেয়াকে জাতির জন্য বিরাট লজ্জার বলেও মন্তব্য রুহুল আমিনের।
মাস পাঁচেক আগেও আরিফ, রিপন, মামুনরা ছিলেন ফুটবলার। বল পায়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াতেন। করোনা তাদের ভাগ্যে নতুন পরিচয় লিখে দিয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ ঝাড়ুদার কেউবা ইজিবাইক চালক। এজন্য দায় ফুটবলারদের দেখছেন না তরফদার রুহুল আমিন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঠিক পরিকল্পনার অভাবকেই দায় হিসেবে দেখছেন তৃণমূলের এ সংগঠক।
আরিফ, মামুন, রিপনদের দুঃখ ছুঁয়ে গেছে বিডিডিএফএ-বিএফসিএর নেতা তরফদার মো. রুহুল আমিনকে। তাদের মানবেতর জীবন দেখে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন রুহুল আমিন। অসচ্ছল-অসহায় তিন ফুটবলারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি ফুটবল সামগ্রী প্রদান করেছেন। তিন ফুটবলার যাতে ফুটবলে সম্পৃক্ত থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন রুহুল আমিন।
২০১৮-১৯ মৌসুমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে খেলেছেন নারায়ণগঞ্জের ছেলে আরিফ হাওলাদার। ২০১৯-২০ মৌসুমে করোনার কারণে লিগ হয়নি। দলও পাননি আরিফ। এ কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে যান। এক বছর আগে আরিফের বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী। মায়ের চোখের সমস্যা। সব মিলে দিশেহারা আরিফ উপায়ন্ত না দেখে রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ বেছে নেন। অথচ এই ফুটবলারই তিন মৌসুম দেশের সর্বোচ্চ আসর প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন।
আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, টিম বিজেএমসি এবং সবশেষ ২০১৬-১৭ মৌসুমে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে খেলেছেন। আর্থিক সহায়তা পেয়ে এবং পুনরায় ফুটবলে ফিরে যেতে পারছেন বলে খুশি আরিফ, ‘গত বছর দল পাইনি। এ কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে যাই। তার ওপর বাবা-মা অসুস্থ। বাবা-মাকে বাঁচাতেই মূলত রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ বেছে নেই। তরফদার রুহুল আমিন স্যার আমাকে আজ আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন। তার ক্লাব সাইফ স্পোর্টিংয়ে অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমার এই দুর্দিনে পাশে থাকার জন্য স্যারকে ধন্যবাদ’।
বাসাবো তরুণ সংঘের হয়ে সবশেষ খেলেছেন খুলনার ইজিবাইক চালক হাসান আল মামুন। আর্থিক সহায়তা পেয়ে তিনি জানান, আমি ফুটবলার ছিলাম। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিবারকে বাঁচাতে ফুটবল ছেড়ে দিনমজুরের কাজ করছি। রুহুল আমিন স্যারকে অনেক ধন্যবাদ। ওনি আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে এক সময় আত্মহত্যার করতে চেয়েছিলাম। রুহুল আমিন স্যার আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ’।
ফুটবল ছেড়ে ঝাড়–দারের কাজ বেছে নেয়া ফরিদপুরের রিপন কুমার দাস বলেন, আমার পরিবার খুব অসহায়। ফুটবল খেলে এক সময় দিন যাপন করলেও এখন কঠিন সমস্যায় পড়ে গেছি। গত বছরও আমি চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল টিঅ্যান্ডটি ক্লাবের হয়ে খেলেছি। তরফদার রুহুল আমিন স্যার আমার দুরাবস্থার কথা জানতে পেরে ওনার অফিসে ডেকে নিয়ে এসেছেন। আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছেন। আমি ওনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি ফুটবল খেলার পাশাপাশি একটা স্থায়ী চাকরির দাবি করছি। আশাকরি স্যার আমার দিকটা দেখবেন।
করোনা মহামারিতেও হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তরফদার মো. রুহুল আমিন। মানবিকতা পরিচয় দিয়ে চলেছেন। মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
তিন খেলোয়াড়কে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ফুটবলাররা দেশের ভবিষ্যৎ। আজ যে তিন ফুটবলার ফুটবল ছেড়ে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন; তারা কিন্তু সবাই ভালো ভালো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তাদের অবস্থা এমন হবে কেন! এর দায় বাফুফের। তার সঠিক পরিকল্পনার। তারা যদি নিয়মিত খেলা মাঠে রাখত, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা শেষ করে নতুন লিগ চালু করত তাহলে রিপন, আরিফদের ফুটবল ছেড়ে রাজমিস্ত্রি, দিনমজুরের কাজ করতে হতো না। ১২ বছরেও ফুটবলের অবকাঠামো দাড় করাতে পারেনি বাফুফে। আজ ফুটবলারদের এই অবস্থা আমি লজ্জিত। এ লজ্জা শুধু আপনার- আমার নয়। এই লজ্জা পুরো বাঙালি জাতির।
আরিফ, মামুন, রিপনদের ফুটবলে পুনরায় ফিরে আসতে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেছেন তরফদার মো. রুহুল আমিন।
বাংলাধারা/এফএ/টিএম/ইরা












