মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
কক্সবাজার যাবে ট্রেন পর্যটকদের এমন স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে সরকার। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্প মেগা সিটিতে রূপ দিবে কক্সবাজারকে। বিশ্বের দীর্ঘতম ও ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সমুদ্র সৈকত সিটি কক্সবাজার এখন রেল যোগাযোগ বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
সৈকত সিটি কক্সবাজারকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে। ১৮ হাজার কোটি টাকার এ অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে অর্শ্বের গতিতে। তহবিলের কমতি নেই শুধু সময়ের ব্যাপার এখন বাস্তবায়ন।
দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেল লাইন প্রকল্পে প্রায় ১২ কিলোমিটার রেল লাইন ইতোমধ্যে স্থাপন করা শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৪শ একর ভূমি ব্যবহার হচ্ছে। এ লাইন স্থাপনে ৩৯টি মেজর ব্রিজ এবং ১৪৫টি মাইনর ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছেন দ্রুত গতিতে। বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেবেল ক্রসিং ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এলাকায় একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। দোহাজারি থেকে ৯টি রেল স্টেশন নির্মাণের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে তৈরি হবে জংশন স্টেশন। ২০২২ সালের জুন মাসে চালু হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে তা ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, রামু হতে মিয়ানমার পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলে ডুয়েল গেজ সিঙ্গেল লাইন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩টি মেজর ব্রিজ ও ৪৫টি মাইনর ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মিত হবে। এক্ষেত্রেও ২২টি লেভেল ক্রসিং ও একটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। তবে ডুলাহাজারা এলাকায় ওভারপাস নির্মাণের মূল কারণ হচ্ছে হাতি চলাচলের নির্বিঘ্ন করার জন্য। কারণ, চকরিয়ার পর থেকে ডুলাহাজারা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলের সময় রাতের বেলায় হাতি পারাপার চোখে পড়ে। ফলে রেল লাইন প্রকল্পে হাতি চলাচলের জন্য ওভারপাস নির্মাণের মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত উখিয়া ও গুনদুম দুটি স্টেশন তৈরি করা হবে।

স্বাধীনতার পর জাপান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সার্ভিস (জেআরপিএস) ১৯৭১ সালে এ রেল লাইন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষা করে। ১৯৯২ সালের এপ্রিলে ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কের তিনটি ইউরোপ-এশিয়া সংযোগ রোডের মধ্যে সাউদার্ন করিডোর হিসাবে অন্যতম রুট চিহ্নিত হয়। ১৯৯৫ সালে সাউদার্ন করিডোর-১ এর প্রাথমিক স্টাডি পরিচালনা করা হয়। ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ২০১০ সালে চূড়ান্তভাবে এ প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬৭০ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের সাহায্য হিসাবে ১ হাজার ১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০১০ সালের জুলাই মাসে। বর্তমানে দুটি পর্যয়ে ব্যয় হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৯টি রেল স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্টেশনের অবকাঠামোগত বাস্তবায়নও চলছে দ্রুত গতিতে। এ প্রকল্পে ৯টি রেল স্টেশন হচ্ছে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার জংশন স্টেশন। ঝিনুকের আদলে তৈরি হচ্ছে আধুনিক ও নয়নাভিরাম জংশন রেল স্টেশন কক্সবাজার। এ ধরনের স্টেশন দেশের কোথাও নেই, এমনটিই দেখা গেছে কম্পিউটার ডায়াগ্রামের মডেলে ও অবকাঠামো বাস্তবায়নের স্পটে। এছাড়া হাতি চলাচলের জন্য ওভারপাস নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে ডুলহাজারা এলাকায়। এই ওভারপাসে শেষ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ক্যামেরাও স্থাপন করা হবে হাতি পারাপার পর্যবেক্ষণের জন্য। কারণ, ট্রেন চলাচলের সময় হাতি পারাপার যেন বিঘ্নিত না হয়।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বাংলাধারা প্রতিবেদককে বলেন, দোহাজারী থেকে ৯টি স্টেশনের মাধ্যমে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল ট্র্যাক নির্মাণের কাজ চলছে। অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে পর্যটকদের সুবিধার্থে। হাতি চলাচল সহজতর করতে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এলাকায় ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।












