মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»
ঋতুরাজ বসন্ত প্রকৃতিকে প্রায় ছুঁই ছুঁই করছে। আর মাত্র দিন দশেক বাকি। বসন্তের আগমনী বার্তায় পলাশ শিমুলের গাছে গাছে রঙ্গিন পাখিদের মিলন মেলা শুরু হচ্ছে। এ ধরনের মিলন মেলা চোখে পড়বে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে থাকা পলাশ-শিমুল গাছে। লাল রঙে রঞ্জিত গাছের ডালে ডালে আর পাতায় পতায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। যেন সব প্রজাতির পাখির আড্ডা জমেছে। একই গাছে দেখা মিলেছে টিয়া, কাঠ বিড়ালি, ঘুঘু, শালিক আর বিচিত্র রকমের সুন্দরী পাখি।
এ ডাল থেকে ও ডালে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে পাখিরা। কেউবা খুঁজছে ছোট ছোট পোকামাকড়, আবার কেউবা পলাশ ফুল থেকে মধু খাওয়ার চেষ্টা করছে। গাছের মগডালে আর শাখা প্রশাখায় লাফিয়ে বেড়াচ্ছে কাঠবিড়ালি। মূলত পলাশ গাছে কোন ধরনের ফল না থাকলেও কাঠ বিড়ালি অন্য পাখিদের মাতিয়ে তুলতে ঠাই নিয়েছে একই আঙ্গিনায়। পলাশ-শিমুল গাছগুলো ্এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। এ সময় পাখিদের আড্ডা আর কলকাকলি শোনা যায় সু্উুচ্চ গাছ থেকে।

বিশেষ করে নগরীর টাইগার পাস থেকে শুরু করে চকবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পাহাড়ে রয়েছে পলাশ, শিমুল, কড়ই আর রেইন ট্রি। শতবর্ষী গাছের নগরী হিসাবে পরিচিত নান্দনিক চট্টগ্রাম। শতবর্ষী এসব গাছে প্রতিনিয়ত আসছে পাখির ঝাঁক। সন্ধ্যা হলে পাখির কলরবে মুখরিত এলাকা, রাত ঘনিয়ে এলে নিস্তব্ধ হয়ে যায়। সিভিল সার্জন দফতরে কর্মরত অনেকের মুখে মুখে রয়েছে একই গাছে কিভাবে টিয়ে, কাঠ বিড়ালি, ফিঙ্গে, ঘুঘু ও সুন্দরী পাখি অবস্থান নেয়। অস্বাভাবিক হলেও সত্য একই গাছের মগডালে পাখিদের আনাগোনা বিচিত্র মিলন মেলায় রূপ নেয়।
সবুজের শ্যামল ছায়ায় পরিবেষ্টিত এ নগরীর বিভিন্ন স্থানে শতবর্ষী গাছের কোঠরে থাকে কাঠবিড়ালি। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে নারিকেল, আম, কাঁঠাল আর বেল গাছে কাঠ বিড়ালির আনাগোনা একটু বেশি। কিন্তু পলাশ শিমুল গাছে কাঠ বিড়ালির কোন খাবার না থাকলেও অন্য পাখিদের জমায়েত দেখলে কাঠ বিড়ালিও হাজির হয়ে যায়।
এমন অবস্থা দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাহাড় বা সিভিল সার্জনের পাহাড়ে। নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন সুউচ্চ এ পাহাড়ে ব্রিটিশ আমলের যে সকল স্থাপনা রয়েছে এগুলো এখন ঝরে ঝরে পড়ছে। আধুনিক যুগের মাল্টিস্টোরিড ভবন তৈরি হচ্ছে এ আঙিনায়। কিন্তু পুরনো ভবনগুলোতে এখন শুধু পাখিদের আবাসস্থল। সন্ধ্যার শুরুতেই পাখিদের কিচির মিচির আর রাতের গভীরে শিয়ালের হুয়াক্কা হুয়া ডাকে যেন এ পাহাড়টির আশপাশ মেতে উঠে।

সিভিল সার্জনের এ পাহাড়কে কেন্দ্র করে একদিকে গড়ে উঠেছে হকার্স মার্কেট। আর অন্যদিকে রয়েছে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। তবে পুরনো ভবনগুলোতে এখনও সিভিল সার্জন অফিসের দূর দূরান্তের কর্মচারিরা আবাসস্থল বানিয়েছে। জরাজীর্ণ ভবন হলেও কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে হয় না এসব কর্মচারীদের। কর্মচারীরা দিনের বেলাতে নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকলেও অফিস সময় শেষে পাহাড়ের চারদিকে ব্রিটিশ আমলে তৈরি করা ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় পদচারণা করে। রয়েছে সুবিশাল সিঁড়ি। কোন ধরনের পলেস্তর ছাড়াই ইট দিয়ে গড়া এসব সিঁড়ি প্রায় শতবছর পার করে দিয়েছে। শ্যাওলা পড়ে এসব সিঁড়ি বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তখন আর মানুষের পদচারণা থাকবে না এসব সিঁড়িতে। আবার পাখিদের কলরবও বন্ধ হয়ে যাবে বর্ষার কারণে।












