সাদিয়া তাসনিম»
শুটকি মাছের একটি আলাদা গন্ধ ও স্বাদ রয়েছে। অনেকেই শুটকি মাছ খেতে খুবই পছন্দ করেন; অনেকে আবার শুটকি মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। কারও কারও কাছে শুঁটকি মাছের ভর্তা ও নানা রকম পদ অত্যন্ত পছন্দনীয়। ভালো মানের সতেজ মাছ কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ছাড়া শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে শুঁটকি মাছ হয় সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক খাবার।
আজ আমরা জেনে নিব কয়েক প্রকারের শুটকি দিয়ে তৈরী একটি পাঁচ মিসালি শুটকি ভর্তার রেসিপি।
উপকরণ
১. ছুরি শুটকি (১টি) ২. লইট্টা শুটকি (১টি) ৩. চিংড়ি শুটকি (৫/৬টি) ৪. রূপচাঁদা শুটকি (১টি) ৫. চিংড়ি (৫,৬টি) ৬. পেঁয়াজ কুঁচি (১কাপ) ৭.সরিষার তেল (৩টেবিল চামচ) ৮. কাঁচা মরিচ (৭টি) ৯. লেবুর রস (২ চা চামচ) ১০. লবণ (স্বাদ মতো)
প্রস্তুতপ্রণালী
প্রথমে শুটকিগুলো ভালভাবে ধুয়ে একটি পাত্রে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর চুলায় একটি পাত্রে ২ টেবিল চামচ সরিষার তেল ভালভাবে গরম করে নিয়ে এতে শুটকি এবং চিংড়ি গুলো পানি ছাড়িয়ে গরম তেলে ভেজে নিতে হবে। শুঁটকিগুলো বাদামি রং এর হয়ে এলে এতে পেয়াজ কুঁচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৬/৭টি এবং লবণ স্বাদমতো দিয়ে ভালভাবে ভেজে নিতে হবে।
ভাজা হয়ে গেলে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে নিয়ে ভালভাবে বেটে ফেলতে হবে অথবা ব্লেন্ডারে ভালভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি আবার ১ টেবিল চা চামচ গরম সরিষার তেলে ভেজে নিতে হবে। এবং সবশেষে ২ চা চামচ লেবুর রস দিয়ে নিজেদের মত করে পরিবেশন করতে পারবেন।
শুঁটকি মাছে যেসব পুষ্টি উপাদান থাকে
প্রোটিন: আমরা জানি দেহের গঠন, ক্ষয়পূরণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রোটিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। শুঁটকি মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া যায়। শুঁটকি মাছের প্রোটিনে যে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, তা প্রায় ডিমের অ্যামিনো অ্যাসিডের সঙ্গে তুলনীয়।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: শুঁটকি মাছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
সোডিয়াম: এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া নার্ভ ও মাংসপেশির সঠিক কার্যক্রমের জন্য সহায়তা করে।
পটাশিয়াম: এটি দেহের জন্য অপরিহার্য উপাদান। পটাশিয়াম দেহে পানির সমতা বজায় রাখে। সেই সঙ্গে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র, মাংসপেশি ও হৃৎপিণ্ডের সুষ্ঠু কার্যক্রমের জন্য এটি প্রয়োজনীয়।
ফসফরাস: আমাদের হাড়, দাঁত ও ডিএনএ এবং আরএনএ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এটি।
ভিটামিন বি১২: এটি স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সঠিক রাখে এবং লোহিত রক্তকণিকা গঠনে সাহায্য করে।
সেলেনিয়াম: সেলেনিয়াম শরীরে খুব কম পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এটি প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এনজাইম তৈরিতে অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া দেহে কোষ ধ্বংস প্রতিরোধ করে।
নায়াসিন: নায়াসিন দেহে খাবার থেকে শক্তি তৈরি করে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শুঁটকি মাছে কোলেস্টেরল ও সেচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড কম থাকে। তাই এটি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়েট করছেন, তাঁরা প্রোটিনের উৎস হিসেবে শুঁটকি মাছ খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। কারণ এতে ক্যালরি কম থাকে। ১০০ গ্রাম শুঁটকি মাছ থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রোটিন এবং ৩০০ ক্যালরি পাওয়া যায়। কিন্তু সমপরিমাণ গরুর মাংস থেকে প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি এবং তুলনামূলক কম প্রোটিন পাওয়া যায়।
বাংলাধারা/এফএস












