২১ মার্চ ২০২৬

পাকিস্তানে নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

পাকিস্তান পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। একটি ভাড়া করা চাটার্ড বিমানে করে বাংলাদেশ দল পাকিস্তান যাত্রা করে। বুধবার রাতেই পাকিস্তানের লাহোরের মাটি স্পর্শ করে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়া বিমানটি। এবার কড়ানিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দল পাকিস্তান সফর করছে। এই শহরেই তারা স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে তিনটি টি টোয়েন্টি ম্যাচে।

তবে সব ছাপিয়ে এখন আলোচিত হচ্ছে পাকিস্তানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।  বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এরই মধ্যে পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, কারণ দেখিয়েছেন যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাই তিনি এই সফরে যেতে চান না। বাংলাদেশ জাতীয় দল তিনবার পাকিস্তানে যাবে।

প্রথম দফায় তারা তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। এরপর একটি টেস্ট ম্যাচ হবে ফেব্রুয়ারি মাসে। আর চুড়ান্ত দফায় এপ্রিলে বাংলাদেশ খেলবে একটি ওয়ানডে এবং আরও একটি টেস্ট ম্যাচ।

কীভাবে নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত করছে বিসিবি

পুরুষ জাতীয় দলের পাকিস্তান সফরের বিষয়টি সামনে চলে আসার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে দেশটিতে প্রতিনিধি দল পাঠায় পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য।

এরপর সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিবিসি বাংলাদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলোচনা করে।

বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমরা সব সময়েই চেয়েছি ছোট একটা সময়ের জন্য পাকিস্তানে যেতে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছিল। সেটাই মেনে আসার চেষ্টা করেছি আমরা।”

“এখানে প্রশ্নটা ছিল নিরাপত্তার,” মি. চৌধুরী পাকিস্তান সফরের বিষয়টি ব্যাখ্যা করছিলেন এইভাবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে পাকিস্তান বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘প্রেসিডেনশিয়াল নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা নিয়েছে।

পাকিস্তানের পুলিশও এই বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন স্তর বিশিষ্ট একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার হয়েই কেবল স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন একজন দর্শক।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম দফার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে লাহোরে। লাহোর পুলিশের ডিআইজি রাই বাবর সাঈদ জানান, এ সময় মোট ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, ১৭টি সুপার পুলিশ ডিভিশন এবং ৪৮টি ডেপুটি সুপার পুলিশ ডিভিশন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৩৪ জন ইন্সপেক্টর এবং ৫৯২জন উর্ধ্বতন সাব-অর্ডিনেট অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

রাই বাবর সাঈদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটারদেরই নয়, পাকিস্তানের ক্রিকেটারদেরকেও একই ধরণের নিরাপত্তা দেয়া হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন