১০ মার্চ ২০২৬

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারে ইউনাইটেড চট্টগ্রাম হসপিটাল ও কলেজ

বিশেষ প্রতিবেদক »

মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) চুক্তিতে চট্টগ্রামস্থ সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) এলাকায় গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ। এতে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও চিকিৎসা শিক্ষার সম্প্রসারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এণ্ড কোং এর সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে একটি পিপিপি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। প্রস্তাবিত মাল্টি স্পেশালিটি ৫’শ শয্যার হাসপাতাল ও ১’শ আসনের মেডিকেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সিআারবি এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের দেয়াল ঘেঁষেই প্রায় ৬ একর জায়গায় গড়ে তোলা এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করবে ইউনাইটেড চট্টগ্রাম হাসপাতাল লিমিটেড। রেলের হাসপাতাল কলোনীর ৪৬ টি সিঙ্গেল কোয়ার্টার ভেঙ্গে ও গর্ত ভরাট করেই নির্মাণযজ্ঞ পরিচালনায় রেলওয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ মাল্টি স্পেশালিটি হসপিটাল ও কলেজটি। কিন্তু বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কর্মসূচীর পরিকল্পনা করছে।

প্রস্তাবিত হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে থাকবে সিআরবি হাসপাতাল।

এ বিষয়ে রেলের প্রকৌশল বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী বাংলাধারাকে বলেন, মূলত এখানে কোন শতবর্ষী গাছ বা খালি মাঠ নেই। রেলওয়ে হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষে এ স্থাপনা তৈরি করা হলে রেলের জায়গায় গড়ে ওঠা তাসফিয়া নামের একটি রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া মাত্র এক থেকে ৫ বছরের ১০/১৫টি চারা গাছ এই ভূমিতে থাকায় কাটা পড়তে পারে। কারণ এ জায়গাটি সিআরবি হাসপাতালের দক্ষিণ পূর্বকোণে। তবে সাত রাস্তার মাধা কমপক্ষে ১০০ ফুট দূরে আর শিরিষতলা মঞ্চটিও প্রায় ১০০ ফুট দূরে। এখানে কোন শতবর্ষী গাছ বা পাহাড় কাটার প্রয়োজন পড়বে না।

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে রেল কর্মচারীদের আবাসস্থল নিশ্চিত না করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) আওতায় সেবার নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় রেল কর্তৃপক্ষ। ৫’শ বেডের মাল্টি স্পেশালিটি হসপিটাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ নির্মাণের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থাপনা থেকে ১ হাজার ফুট দূরে সিআরবি শিরিষতলা।

৬ একর জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে রেল কর্মচারীদের আবাসস্থলগুলো বিলীন করে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর পূর্বাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে মাত্র পনের দিনের নোটিসে আবাসস্থল ছেড়ে দেয়ার বিপরীতে। রেল কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের বিভিন্ন ব্যানারে চট্টগ্রামের সিআরবিস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী এলাকায় গত বছর মানববন্ধন করেছিল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ১৪টি সংগঠন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ৮ কর্মচারীকে নোটিস করা হয়েছিল গত বছরের ১২ অক্টোবর। পরে ১ নভেম্বরের আগে তথা পনের দিনের মধ্যে অন্যত্র বাসা বরাদ্দ দিয়ে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ কে। গত বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কোন ধরনের বাসা বরাদ্দ দেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। কিন্তু এ আট কর্মচারী তৎকালিন জিএম সরদার সাহদাত আলীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনমাসের সময় দেয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নোটিসের বিষয়টিও।

প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে সিআরবি হাসপাতালের দক্ষিণ দিকে রেলওয়ের জায়গা থেকে রেস্টুরেন্টটি সরাতে হবে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৮ জনের বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হয়। মোট ৪৬টি স্থাপনা ভাংচুর করে পিপিপির আওতায় হাসপাতালের অংশটুকু নির্মাণের। ৮ জন নোটিসকারীকে বাসা বরাদ্দের যে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে সেগুলো টাইগার পাস এলাকার জরাজীর্ণ আবাসস্থল। এ ছাড়াও এসব স্থাপনা সন্ত্রাসীদের দখলে রয়েছে। সরকারি গ্যাস, বিদ্যুত ও পানি ব্যবহার করে সন্ত্রসীরা সরকারি বাসার ভাড়া আদায় করলেও পূর্বাঞ্চলীয় জিএম যেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তেমনি প্রকৌশল বিভাগও সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা পাওয়ায় কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি এসএসএই কার্য্যকে।

জানা গেছে, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় ‘স্টাবলিস্টমেন্ট অব এ ফাইভ হান্ড্রেড বেড মাল্টি স্পেশালিটি হসপিটাল অ্যান্ড এন্ড হান্ড্রেড সিট মেডিকেল কলেজ অন বাংলাদেশ রেলওয়ে সাইট ইন চিটাগাং’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সঙ্গে গত বছরের ১৮ মার্চ চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চট্টগ্রামস্থ সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) এলাকায় বিদ্যমান রেলওয়ে হাসপাতালের দক্ষিণ পার্শ্বের খালী ৬ একর জায়গায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রকল্প সাইনের পেছনের গর্ত ভরাট ও চারাগাছ কেটে হাসপাতাল ও কলেজটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫’শ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতাল ও ১’শ আসন বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ নির্মাণের জন্য সম্প্রতি ওই এলাকার ৪৬টি পরিবারকে রেলের বরাদ্দকৃত আবাসস্থল ছেড়ে যেতে হয়েছে। মাত্র পনের দিনের নোটিসে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করা কতটা সমীচীন এমন দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের। পরে এ সকল কর্মচারীরা রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জিএম সরদার শাহাদাত আলীর সঙ্গেও সাক্ষাত করেছেন। ৩১ অক্টোবর ছিল নোটিস অনুযায়ী ঘর ছেড়ে দেয়ার সর্বশেষ সময়সীমা। এ ৮টি ঘরের বিপরীতে ২ দশমিক ৪২ একর জায়গা সংস্থান সম্ভব। এ জায়গাটুকুতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের কথা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ২ দশমিক ৪২ একর জায়গা ভূসম্পত্তি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্ধারের পর তা বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ কে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বরাবর এ ধরনের চিঠি ইস্যু করেছিলেন প্রকল্প পরিচালক তথা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সেতু/পূর্ব মো. আহসান জাবির। গত বছরের ১৩ আগস্ট এ ধরনের চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে প্রধান প্রকৌশলী/পূর্ব, প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা/পূর্ব ও বিভাগীয় ব্যবস্থাপক চট্টগ্রামকে।

এদিকে, এ চিঠির পদক্ষেপ নিতে গিয়ে গত বছরের ১২ অক্টোবর ৮টি নোটিস প্রেরণ করা হয়েছিল প্রকল্প পরিচালকের দফতর থেকে। এ নোটিসে প্রকল্পের সাইট বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ৮ কর্মচারীর বিপরীতে বরাদ্দকৃত বাসার বরাদ্দ আদেশ বাতিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এমনকি পনের দিনের মধ্যেই বাসাসমূহ খালি করে নতুনভাবে বাসা বরাদ্দ দিতে বলা হয়েছিল বিভাগীয় প্রকৌশলী-২কে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ