১৪ মার্চ ২০২৬

পারিবারিক দ্বন্দে হামলা, ‘মাথা কাটা’ আতংক ছড়িয়ে স্কুল বন্ধের পায়তারা

ছবি: গ্রামার পয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইনসেটে হামলাকারী আবুল মনসুর

মিজানুর রহমান ইউসুফ »

সীতাকুন্ডে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মাতাল এক যবক একটি স্কুলে হামলা চালাতে গেলে তার পা কেটে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত। পরে সেই রক্ত কে পুঁজি করে ‘শিশুর মাথা কেটে নেয়ার’ গুজব ছড়িয়ে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ জুলাই) সকালে সীতাকুন্ড উপজেলার সোনাইছরি ইউনিয়নের লালবেগ এলাকায় বেসরকারি ‘গ্রামার পয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে’ এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন: সীতাকুন্ডে স্কুলের বাথরুম- সিড়িতে রক্ত, ছড়িয়ে পড়েছে ছেলেধরা আতংক

ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রোববার (২১ জুলাই) রাতের কোন এক সময় আবুল মনুর নামে এক ব্যাক্তি মাতাল অবস্থায় স্কুল ভবনে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ও বিভিন্ন কক্ষে ভাংচুর করে। এসময় তার পা কেটে গেলে ওয়াশরুমের সামনে, সিড়িতে ও বিভিন্ন স্থানে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (২২ জুলাই) সকালে অভিভাবকরা স্কুলে এসে রক্তের দাগ দেখতে পান। এসময় ষড়যন্ত্রকারিরা সুকৌশলে স্কুল থেকে শিশুর মাথা কেটে নিয়ে গেছে বলে গুজব রটিয়ে দেয়। মুহুর্তের মধ্যে এ ‍গুজব ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়। যেসব অভিবাবক তাদের বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে এসেছিলেন তারা বাচ্চাদের নিয়ে ফিরে যান। পরে কর্তৃপক্ষ স্কুল ছুটি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আশেপাশের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে।  

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা সীতাকুন্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বাংলাধারাকে বলেন, স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল কাশেম রাজার ছোট ভাই আবুল মনসুর মাতাল অবস্থায় রাতে স্কুলে ঢুকে ওয়াশরুমের বেসিনে লাথি মারলে তার পা কেটে যায়। পরে তাকে তার আরেক ভাই উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়।

তিনি বলেন, কেটে যাওয়া পা থেকে ওয়াশরুমের সামনে ও সিড়িতে রক্ত পড়ে। সকালে সেই রক্ত দেখলে অভিভাবকদের মধ্যে শিশুর মাথা কেটে নেওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে যা সত্য নয়।

পারিবারিক দ্বন্দ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে এসআই রাশেদুজ্জামান বলেন, সভাপতি আবুল কাশেম রাজা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সবার সাথে কথা বলে সমাধান করার আশ্বাস দেয়ায় আপাতত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক অধিবাসী জানিয়েছেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল কাশেম রাজার সাথে তার ভাই, ছেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যাক্তির বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক ও ব্যাবসায়ীক দ্বন্দ চলছে। এই দ্বন্দের জের ধরে তারা স্কুলটি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজার ভাই মনসুর গতকাল রাতে মাতাল হয়ে স্কুলে হামলা করতে গিয়ে পা কেটে যায়। কাটা পা থেকে স্কুলে রক্ত ছড়িয়ে পড়লে ষড়যন্ত্রকারীরা শিশুর মাথা কেটে নেয়ার গুজব রটিয়ে ভীতি সঞ্চার করে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালায়।

এবিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য আবুল কাশেম রাজার মোবাইলে কল করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে ফোন করার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নাহিদ শারমিন রুমি বাংলাধারাকে বলেন, সকালে দপ্তরি স্কুল খুলে বাথরুমের মেঝে, সিড়ি ও আমার কক্ষের সামনে রক্ত দেখতে পান। এসময় কিছু অভিভাবক এসে রক্ত দেখলে শিশুর মাথা কাটার গুব ছড়িয়ে পড়ে। আমরা স্কুল ছুটি দিয়ে দিয়েছি এবং পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।    

তিনি বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল স্কুলটি বন্ধ করে দেয়ার অপচেষ্টা করে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে। দেশে চলমান ‘মাথা কাটা’ আতংককে কাজে লাগিয়ে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সেই প্রভাবশালী মহল এমন কান্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রধান শিক্ষক।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ