চট্টগ্রামের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘পার্কভিউ হাসপাতাল’-এ আবারও চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে দুই নবজাতকের মাথার পেছনে গভীর সিজারের কাটা দাগ পাওয়ার ঘটনায় নগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ—এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক দুই সময়ে ডেলিভারির সময় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ডেলিভারির পর নবজাতকদের কেবিনে নেওয়ার পরই পরিবারের লোকজন মাথার পেছনে অস্বাভাবিক গভীর কাটা দাগ দেখতে পান। অভিযোগ উঠেছে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসতর্কতার কারণেই নবজাতকদের মাথায় অস্ত্রের আঘাত লাগে। হাসপাতালে তখন চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. তৌফিকুর নাহার মোনা। পরিবারের দাবি, বিষয়টি জানানো হলে চিকিৎসক নিজের দায় স্বীকার না করে উল্টো স্বজনদের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করেন।
ভুক্তভোগী এক নবজাতকের বাবা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “ইফতারের আগে আমার স্ত্রীর ডেলিভারি হয়। কিছুক্ষণ পর শিশুকে কেবিনে আনা হলে আমার স্ত্রী মাথার কাপড় সরিয়ে দেখে পেছনে বড়সড় কাটা। সঙ্গে থাকা আমার বোন ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উল্টো বলেন আমরাই নাকি শিশুর মাথা কেটে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছি! এটা কেমন অমানবিক কথা?”
তিনি আরও বলেন, “একজন মা-বাবা কি নিজের সন্তানের মাথা কেটে কাউকে ফাঁসাতে পারে? ভুল হলে তা স্বীকার করে চিকিৎসা দিয়ে সমাধান করার বদলে আমাদেরই দোষারোপ করা হয়েছে। এটা শুধু অবহেলা নয়, মানবিকতার চরম অবক্ষয়।”
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এটি এই প্রথম নয়। ২০২২ সালের মে মাসেও একই হাসপাতালে একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডেলিভারির সময় নবজাতকের মাথা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরও যথাযথ জবাবদিহি বা দৃশ্যমান শাস্তির নজির দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় জনমনে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বারবার এমন অভিযোগ কেন? তদারকি কোথায়? জবাবদিহি কই?
স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বশীলদের মতে, প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া। সেখানে সামান্য অসতর্কতাও নবজাতকের জন্য স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যদি বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তবে তা নিছক ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ বলে পাশ কাটানো যায় না।
এ ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অন্যথায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট হবে এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে।













