মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
সামাজিক জীবনে মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। সামাজিক অবস্থানে থেকে নিজের বা পরিবারের নিরাপত্তা অনেক সময় আবশ্যিক হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে বা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় নিকটবর্তী থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি জিডি করা জরুরি পুলিশি সহায়তার জন্য। কারণ অপরাধীরা যে কোন সময় আপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে নয় নিরাপত্তার খাতিরে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে জিডি করা প্রয়োজন। অন্যথায় অপরাধীরা আপনাকে মিথ্যা বা পরিকল্পিত সমস্যার বা অপরাধের উদ্ভব ঘটিয়ে ও আইনি জটিলতায় ফেলে ফায়দা লোটার চেষ্টা করতে পারে। জিডি করতে হলে আপনি আপনার পার্শ্ববর্তী থানার ডিউটি অফিসারের সহায়তা নিয়ে জিডি করতে পারেন। জিডি করলে অপরাধীরাও আপনার কাছ থেকে দূরে দূরে থাকবে।
কি কারণে এখন থানায় অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ঃ কথায় আছে থানার কাছ দিয়ে কানাও হাটে না। এসব কথার এখন অনেক ভিত্তিই নষ্ট হয়ে গেছে। একসময় জিডি করা নিয়ে অনেকের মধ্যেই ভীতি কাজ করতো। কারন পুলিশকে নীরবে ভয় পেতো মানুষ। সোস্যাল মিডিয়া তথা ইন্টারনেটের যুগে এসে মানুষ যেকোন অপরাধই তুলে ধরছে অনায়াসে। সেকেন্ডের মধ্যে ভালো-খারাপ সবকিছুই নজরে চলে আসছে দেশ ও জাতির। বিশেষ করে পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালীপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে এমনকি মূল্যায়ন হওয়ার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে যেমন পুলিশ। তেমনি সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। পান থেকে চুন খসলেই তা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায়। দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কিভাবে জিডি করবেন:
জিডি বা সাধারণ ডায়েরি একটি সাধারণ আবেদন পত্রের মতোই নিজিকে লিখতে হয়। জিডির মাধ্যমে থানার ওসিকে কোন সম্ভাব্য ও ঘটে যাওয়া ঘটনার বিশ্লেষণ লিখতে হয় সাদা কাগজে। এটি লিখতে হয় সংশিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে। কোন বিষয় তথা নিজের প্রয়োজনের কথা উল্ল্যেখ করেই তা নথিভুক্ত করার আবেদন জানাতে হয় ওসিকে। এরপর কি কারনে জিডি করা হচ্ছে,কার বিরুদ্ধে, কোথায়, কখন কি ঘটেছিল বা ঘটতে পারে এসব বিষয় নির্ভুলভাবে জিডির কপিতে লিখতে হয়ে। যেমন কেউ যদি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ভোটার আইডি ও পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলে তাহলেও সম্পূর্ণ তথ্য দিয়েই জিডি করতে হয়। শুধু অপরাধীকে দমন করতে বা দমিয়ে রাখতে যে জিডি করতে হয় তা ঠিক নয়।
কোন মূল্যবান কাগজপত্র বা জিনিস হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলেও আপনি জিডি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে সকল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করতে হয়। অন্যথায় আপনার প্রয়োজন সার্থক হবে না। জিডির ভেতরে আপনার সকল তথ্য তথা যা পেতে আপনি আগ্রহী তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উল্ল্যেখ করতে হবে। আপনার যদি পরীক্ষার সনদ বা ভোটার আইডি হারিয়ে যায় তাহলে এর নম্বর, নাম ও ঠিকানা ইত্যাদি স্পষ্ট করে লিখতে হবে। এছাড়াও হারানো কাগজের যাবতীয় তথ্য উল্ল্যেখ করতে হবে। এমনকি সময়, দিন, ঘন্টা ও সেকেন্ড উল্ল্যেখ না করলে আপনার জিডি সঠিক তদন্ত পাবে না।
সবশেষে জিডিকারীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে দিতে হবে। জিডি করার পর জিডির দুটি কপি তৈরী করতে হয়। এরমধ্যে একটি থানায় জমা রেখে দেন ডিউটি অফিসার বা দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা। আরেকটি কপিতে আপনাকে জিডি গ্রহনের স্বাক্ষরসহ জিডির নথিভুক্তকরণ নম্বর দিয়ে তা সহায়তা প্রার্থীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিডি করলে আপনি যেসব সুবিধা পাবেন:
র্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটেলিয়েন (র্যাব) বা পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিতে জিডি করা হয়। এতে আপনার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন, নিজের সম্পদ রক্ষা ও অপরাধীর কাছ থেকে নিজেকে রক্ষায় জিডি করা হলে পুলিম আপনাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সচেষ্ট থাকবে। এছাড়াও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য আপনি আইনের সহায়তা চাইতে পারেন জিডির মাধ্যমে। তবে মিথ্যা জিডি করে যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করেন তাহলে নিজেকেও অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। যদি তদন্তে তা প্রমাণ হয়।












