১৮ মার্চ ২০২৬

পে-অর্ডার জালিয়াতি নাকি ষড়যন্ত্র!

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে অনুষ্ঠিতব্য মে ও জুন মাসের নিলামে খুলিলুর রহমান নামে একজনের বিরুদ্ধে পে-অর্ডার জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

গত মে ও জুন মাসের নিলামে তিনটি লটের মোট মূল্যের বিপরীতে পে-অর্ডার জমা দিয়েছিলেন খুলিলুর রহমান। তিনি দুটি লটের সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে অনুষ্ঠিতব্য ওই দুই মাসের নিলামে তিনটি লটের বিপরীতে মোট মূল্যর বিপরীতে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া দুটি লটের সর্বোচ্চ দরদাতাও নির্বাচিত হন তিনি।

কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে এক্সিম ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড় শাখায় পে-অর্ডার ভেরিফাই করতে গেলেই বাধে গন্ডগোল।

প্রমাণিত হয় মে এবং জুন মাসে অনুষ্ঠিত দুটি নিলামের ৩ টি দরপত্রে দরদাতা খলিলুর রহমানের জমা দেওয়া ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৮ টাকার তিনটি পে-অর্ডারের প্রকৃত মূল্য মাত্র ৩৫০ টাকা।

এই বিষয়ে খলিলুর রহমান বাংলাধারাকে বলেন, আমাকে এখনো কোনো ব্যাংক থেকে গড়মিলের বিষয়ে ফোন দেয়নি।

তিনি আরো বলেন, যদি কোনো গড়মিল হয় সেটি আমকে তৎক্ষনাৎ জানানো উচিত ছিলো এবং আমার কাছে পে-অর্ডারের ছবিও আছে। (যেটি বাংলাধারার কাছে সংরক্ষিত আছে।)

দরদাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফ্লোর ম্যাট, পিভিসি ব্যানার এবং পিয়াজো ব্রান্ডের ১৮০ টি সিএনজি ট্যাক্সির তিনটি পৃথক লটে দরপত্র জমা দেয় খলিলুর রহমান। পিভিসি ব্যানারের পাশাপাশি সিএনজি ট্যাক্সির লটেও সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় এই দরদাতা।

তবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখা সূত্র জানিয়েছে, দরদাতা খলিলুর রহমানের এমন কর্মকাণ্ড ফৌজদারী দণ্ডবিধি অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং কাস্টমসের নিলাম কার্যক্রমের জন্য হুমকিস্বরুপ।

এই জালিয়াতির কারণে কাস্টমসের নিলাম শাখায় দাখিলকৃত এই দরদাতার সকল দরপত্র সমূহ বাতিল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছে নিলাম শাখা। একই সাথে এই বিডার ভবিষ্যতে যাতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম কার্যক্রম অংশগ্রহন করতে না পারে সেজন্য তাকে কালো তালিকাভূক্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এই বিষয়ে খলিলুর রহমান বাংলাধারাকে বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষের নিকট একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। সেখানে আমার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। (এটিও বাংলাধারার কাছে সংরক্ষণে আছে)।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বাংলাধারাকে বলেন, পে-অর্ডারে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া পে-অর্ডার তিনটি নগদায়নের জন্য ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে। যদি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় জালিয়াতির দায়ে খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে।

এই বিষয়ে খলিলুর রহমান বাংলাধারাকে বলেন, পে-অর্ডার যদি ট্রেজারিতে না গেলে সেটি কীভাবে প্রমাণিত হবে। আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। একটি সংঘবদ্ধ অকশন চক্র আমাকে বিপদে ফেলতে এই ষড়যন্ত্র করছে।

প্রাথমিক ভাবে জালিয়াতি প্রমাণ মিলার বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রেজারির মাধ্যমে নগদায়ন হবে। এর আগে তো কেউ বলতে পারবে না জালিয়াতির কথা।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন