১৭ মার্চ ২০২৬

ফটিকছড়িতে ২ স্কুলছাত্রীকে চাপা দেওয়া ঘাতক জীপচালক গ্রেপ্তার

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি»

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুল ছাত্রীকে চাপা দেওয়া সেই ঘাতক চাঁদের গাড়ি (জীপ) চালক আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত কাল রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম শহরে বায়েজিদ থানাধীন এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চালক মো. আলাউদ্দিন (২৫) উপজেলার নারায়নহাট ইউনিয়নের উত্তর শৈলকুপা এলাকার রুহুল আমিন প্রকাশ তনু ফকিরের পুত্র।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফটিকছড়ি থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় মিশু আক্তারের চাচা বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা করেন। আমরা রোববারে গোপন সংবাদের মাধ্যমে মামলার প্রধাম আসামি আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছি চট্টগ্রাম শহরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে ঘটনার চার দিনের মাথায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সোমবার চালক আলাউদ্দিনকে আদালতে প্রেরণ করেছি।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে বার্ষিক চার হাজার টাকার টোকেন সংগ্রহের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন চাঁদের গাড়িটি (জীপ) চালিয়ে আসছেন।’

হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্টের তাড়া খেয়ে মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনের সহযোগিতা পালিয়ে গিয়ে আত্নগোপনে থানেক বলে স্বীকার করেছে চালক আলাউদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) দুপুর সাড়ে ১২ টায় এস্যাইমেন্ট জমা দিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে পেলাগাজি দীঘির সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিশামনি ও মিশু আকতার নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। তারা পাইন্দংস্থ মোল্লার বাড়ীর আবুল বশরের কন্যা মিশু আকতার(১৫) ও একই এলাকার তুফান আলীর বাড়ীর লোকমানের কন্যা নিশা মনি (১৫)। তারা ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। স্থানীয়রা গাড়ীর নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশের টিআই নিখিল চাকমা ও সার্জেন্ট আলামিন তাদের মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর অপর একটি আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ঐ দিন দুপুরে প্রায় দুই ঘন্টা চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি মহাসড়ক, ফটিকছড়ি- হেঁয়াকো সড়ক, পেলাগাজি- বারৈয়ারঢালা সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পরে এডিশনাল এসপি শাহাদাত হোসাইন, ফটিকছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মহিনুল হাসান, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার দুই দিন পরে ট্রাফিক পুলিশের টিআই নিখিল চাকমা ও সার্জেন্ট আলামিনকে ক্লোজড করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন