১৯ মার্চ ২০২৬

ফেব্রুয়ারিতে নতুন রূপে হাজির হবে কাজীর দেউড়ি শিশু পার্ক (ভিডিও)

রুবেল দাশ  »

এগিয়ে চলছে নগরীর কাজীর দেউড়ি শিশু পার্কের আধুনিকায়নের কাজ। করোনা মহামারীর কারণে বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকলেও আবারও আধুনিকায়নের কাজ সচল হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর রাইডের নির্মাণ কাজ আবারো পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্মিত হয়ে গেছে সুদৃশ্য নতুন ফটক। নয়নাভিরাম ফিস একুরিয়ামের কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। তবে চাইনিজ প্রকৌশলীরা করোনার কারণে চীনে ফিরে যাওয়ার কারণে একুরিয়ামের কাজ বর্তমানে বন্ধ হয়েছে। তারা চীন থেকে ফিরে এলেই কাজ শুরু হবে এটির।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ নতুন রূপে গড়ে তোলা হচ্ছে পার্কটিকে। আগের পুরোনো রাইডগুলো সরিয়ে নতুন ২৫টি অত্যাধুনিক রাইড সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া বিশ্বমানের ইনডোর গেমসও সংযুক্ত করা হবে পার্কটিতে। ওয়ান্ডার ল্যান্ড গ্রুপের তত্ত্বাবধানে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে এ আধুনিকায়নের কাজ করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর পার্কের আধুনিকায়নের কাজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। প্রকল্পের মেয়াদ ৬ মাস হলেও করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের সাথে যুক্ত চীনা প্রকৌশলীরা দেশে ফিরে যান। ফলে পিছিয়ে যায় আধুনিকায়নের কাজ। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আধুনিকায়নের কাজ শেষ হবে।

জানতে চাইলে কাজীর দেউড়ি শিশু পার্কের সুপারভাইজার খাইরুল আমিন বাংলাধারাকে বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে আধুনিকায়নের কাজ উদ্বোধনের পর ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়। তবে করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যথাসময়ে কাজ শেষ হতে পারেনি। তবে আশা করি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

এদিকে, নামে শিশু পার্ক হলেও তরুণ-তরুণীদের অবাধ বিচরণের কারণে এখনও শিশু নিয়ে আসা অভিভাবকরা মাঝে-মধ্যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। তাই তাদের দাবি, রাইড আধুনিকায়নের পাশাপাশি এ বিষয়টিতেও যেন নজর দেয় কর্তৃপক্ষ।

চকবাজার থেকে নিজের শিশুকন্যাকে নিয়ে পার্কে আসা শরীফ হোসেন বলেন, ছোটদের রাইডে বড়রা উঠে বসে থাকে। ফলে শিশুরা জায়গা পায় না। এছাড়া কপোত-কপোতীরা ঝোপ ঝাড়ের ভিতর বসে থাকে। এতে অভিভাবকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। নতুন পার্কে এ বিষয়টির প্রতি নজর দিতে পারে কর্তৃপক্ষ।

রাইড আধুনিকায়নের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের খাবারের জন্য পার্কের ভেতরেই উন্নতমানের খাবারের দোকান বরাদ্দ দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আগে পার্কের ভেতরের খাবারের দোকানগুলোতে দাম ও মান নিয়ে দর্শনার্থীদের যেসব অভিযোগ ছিল এসব দোকানের মাধ্যমে সেগুলো অনেকটাই ঘুচবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া এসব দোকানে খাবারের দামের তালিকাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের আর পড়তে হবে না দুর্ভোগে।

বর্তমানে এ শিশুপার্কে প্রবেশ মূল্য প্রতিজন ৬০ টাকা। এছাড়া যেকোন রাইডে চড়তে ৬০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। তবে উন্নতমানের রাইড আসলে টিকিটের দাম বাড়ানো হবে কিনা এখনো সে সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন