১০ মার্চ ২০২৬

‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকজন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সরকার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে ভাতা দেবে। ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তাঁরা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

আগে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন, সরকারি চাকরি করছেন বা পেনশনভোগী আছেন ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।

কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।

সরকার বলছে, ভাতাভোগী নির্বাচনে কোনো দল বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। আর পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ হওয়ার পর হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারকেও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য শিগগিরই একটি ‘হটলাইন’ চালু করা হবে। এ হটলাইন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার আগপর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান ‘চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮’-এ কল করে ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম বা সমস্যার অভিযোগ দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ