খালের পানিতে মিশছে কারখানার বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্য। দূষিত হচ্ছে পানি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে সেই বর্জ্য ফেলার পাইপের সন্ধান পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শেষ পর্যন্ত পরিবেশ দূষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বনফুল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি নামের প্রতিষ্ঠানটিকে। একই সঙ্গে খালে বর্জ্য নিষ্কাশনে ব্যবহৃত পাইপলাইন দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার জয়কালী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বনফুল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি তাদের কারখানার বিষাক্ত গ্যাস, প্রক্রিয়াজাত বর্জ্য ও গরুর গোবরের বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে সরাসরি পাশের একটি খালে ফেলছিল। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য নিষ্কাশনের কারণে খালের পানি দূষিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় কারখানা থেকে খালের দিকে নেওয়া বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপলাইন শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বনফুল অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে খালে বর্জ্য ফেলার কাজে ব্যবহৃত পাইপলাইন দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস, বর্জ্য বা গোবর খালে ফেলা না হয়, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীম আহমদ সরকার, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশের ক্ষতি করে বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থ খাল, নদী কিংবা উন্মুক্ত স্থানে ফেললে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পকারখানার বর্জ্য খালে পড়লে শুধু পানিই দূষিত হয় না, এর প্রভাব পড়ে আশপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও। তাই কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।














