শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত»
দেশের আমদানি রপ্তানির প্রায় ৯৮ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বলা হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঘোষিত শুল্ক বন্দর। তবে দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা।
গত ১৪ বছরের বন্দরের সক্ষমতা না বাড়ায় প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে লেগে থাকে কন্টেইনারর জট। চট্টগ্রাম বন্দরের বাড়েনি কন্টেইনার জেটি। এখনো জেটির সংখ্যা ১৮ টি। ১৯ টি বেসরকারি আইসিডির মধ্যে সচল আছে ১৭ টি।সম্প্রতি আরেকটি নতুন আইসিডি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সাইফ পাওয়ার টেক।
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।তাই বন্দরের এই সীমাবদ্ধতা কমাতে এবং সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের হালিশহর সমুদ্র উপকূলে তৈরী হচ্ছে চট্টগ্রাম বর্ধিতাংশ বে টার্মিনাল। যেটি দেশের প্রথম বে টার্মিনাল।
বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই বে টার্মিনাল নির্মাণ হবে প্রায় ২৫ শ একর জমিতে।ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ৮৭১ একর জমি ছাড়াও সমুদ্রে জেগে ওঠা আরও ১ হাজার ৬০০ একরসহ ২ হাজার ৫০০ একর জমিতে টার্মিনাল নির্মিত হবে। এখানে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।
বে টার্মিনাল নির্মাণের ফলে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের জাহাজ। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার গভীর ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া কর্ণফুলী নদীর জেটিতে পৌঁছাতে একটি জাহাজকে ১৫ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। কিন্তু বে টার্মিনাল হলে তা শূন্য কিলোমিটারের মধ্যেই বার্থিং করতে পারবে।
বে টার্মিনাল নির্মাণের ফলে বন্দরের প্রতিবছর আমদানি রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডেলিং পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে।কেননা এখানে একসাথে ৫০ টি জাহাজ বার্থিং করা যাবে।এছাড়া এই বে টার্মিনাল নির্মিত হবে ওপেন সি পোর্ট হিসেবে।যার ফলে বেড়ে যাবে আমদানি রপ্তানি।দেশের অর্থনীতিতে আসবে নতুন গতিশীলতা।
নতুন এই বে টার্মিণাল মোট তিনটি টার্মিনাল হবে।একটি টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী হবে।বাকি দুইটি টার্মিনাল তৈরী করতে ৭ টি বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করছে।তন্মধ্যে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে টার্মিনাল দুইটি নির্মাণের কাজ। সম্প্রতি নৌ পরিবহণ মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বে টার্মিণাল পরিদর্শনে এসে জানান ২০২৪ সাল নাগাদ শেষ হতে পারে বে টার্মিণাল নিমার্ণের কাজ।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












