৩১ মার্চ ২০২৬

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জন্মাষ্টমী উদযাপন

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রিানের উৎসব শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন যা জন্মাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়। নগরীতে উৎসবটি পালনে ছিল বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রার আয়োজন। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে নগরী ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ, নিয়ে ভক্তরা আন্দরকিল্লা, মোমিন রোডসহ আশপাশের এলাকায় জড়ো হলে পুরো এলাকাটি পরিণত হয় ভক্তদের মিলনমেলায়।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে ঐতিহাসিক এই মহাশোভাযাত্রা নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামস্থ সহকারী ভারতীয় হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিলেটের মহাপ্রভু শ্রীঅঙ্গনের অধ্যক্ষ শ্রীল রাধাবিনোদ মিশ্রজী মহারাজ। 

শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সহ-সভাপতি ও মহাশোভাযাত্রা উপ-পরিষদের আহ্বায়ক অলক দাশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, শ্রীকৃষ্ণ আজীবন মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজে কোনও বৈষম্য থাকবে না। এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আবহমানকাল থেকে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। ঐতিহ্যের এই ধারা অব্যহত রাখতে হবে।

সহকারী ভারতীয় হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতও আপনাদের পাশে ছিল। আমাদের দেশের অনেক নাগরিকও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন, যা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। 

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে নগরী ছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ, নিয়ে ভক্তরা আন্দরকিল্লা, মোমিন রোডসহ আশপাশের এলাকায় জড়ো হন।

ভক্তরা কৃষ্ণের রথ, রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি, কংসের কারাগারসহ শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা অংশের আদলে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকেও র‌্যালি যোগ দেয় শোভাযাত্রায়।

শোভাযাত্রা ঘিরে নগরের কয়েকটি সড়কের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে নগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগ। গুডস হিল ক্রসিং, জামাল খান, এনায়েত বাজার, ফিশারি ঘাট, সিটি কলেজ মোড়, লাভ লেইন, আমতলা, তিনপুলের মাথা সহ শোভাযাত্রার গমনপথের সব সড়কে যানবাহন চলাচল সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত আংশিক বন্ধ রাখা হয়।

এছাড়াও পুরো নগরীজুড়ে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। নগরীর মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

জন্মাষ্টমীর্ শোভাযাত্রা জেএমসেন হল থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, টেরীবাজার, লালদীঘির পূর্ব পাড়, সোনালী ব্যাংক মোড়, কোতোয়ালী থানার মোড়, নিউ মার্কেট, রাইফেল ক্লাব, তুলসীধাম, নন্দনকানন, মোমিন রোড ও চেরাগী পাহাড় ঘুরে ১২টার দিকে জেএমসেন হলের সামনে এসে শেষ হয়।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন