১ ডিসেম্বর ২০২৫

বলের দাপট, ব্যাটে ঝড়

শ্রীলঙ্কার মাটিতে ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ ঘরের মাঠে আরও এক চমক দেখাল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে সফরকারীদের ১১০ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ, এরপর ব্যাট হাতে ফিনিশিং টাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক লিটন দাস। এরপরই বোলারদের দাপটে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে সাইম আইয়ুবকে ফিরিয়ে দিনটা শুরু করেন তাসকিন আহমেদ। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ হারিস, সালমান আলি আগা, হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজ। ৬ ওভারের মধ্যেই পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৮।

একটু প্রতিরোধ গড়েন ফখর জামান। ফিফটির কাছাকাছি গেলেও ৩৪ বলে ৪৪ রানে রান আউট হয়ে ফেরেন। এরপর আব্বাস আফ্রিদিকে নিয়ে খুশদিল শাহ জুটি গড়লেও ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে খুশদিল আউট হলে ভাঙে ৩৩ রানের জুটি।

শেষ ওভারে এক ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। তাসকিনের সেই ওভারের প্রথম বলে ফাহিম আশরাফ, দ্বিতীয় বলে রান আউট হন সালমান মির্জা আর তৃতীয় বলেই আব্বাস আফ্রিদিকে ফিরিয়ে দেন এই পেসার। তিনি ৩.৩ ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা বোলারদের একজন।

তবে নজর কাড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে সবচেয়ে কম রান দেওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ৫ রানের মধ্যেই ফিরেন তানজিদ হাসান ও লিটন দাস। তবে এরপর দৃঢ়তা দেখান পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। ৭৩ রানের দুর্দান্ত জুটিতে তারা জয় সহজ করে তোলেন।

১৩তম ওভারে হৃদয় আউট হলেও (৩৭ বলে ৩৬), জয় নিশ্চিত করতে খুব বেশি সময় নেননি ইমন। ৩৪ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কা। অপরপ্রান্তে ১০ বলে ১৫ রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন জাকের আলি অনিক।

২৭ বল হাতে রেখে জয় তুলে নেওয়া এই ম্যাচে বোলার-ব্যাটার সবাইকেই দেখা গেছে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। এ জয়ে সিরিজেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

বাংলাধারা/এফইএমএফ

আরও পড়ুন