বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও টেকসই রাখতে তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে আয়োজিত আইটেক ডে ও বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে ভারতীয় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা (আইটেক) কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, সুশাসন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, জ্বালানি ও কারিগরি শিক্ষাসহ নানা খাতে ভারত তাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে শিল্প, বাণিজ্য, লজিস্টিকস, শিপিং ও রপ্তানি-আমদানির কেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মেয়র আরও বলেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করে। তরুণদের এই বিনিময় কার্যক্রমকে তিনি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখা ও শক্তিশালী করার মূল চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম—এমন মন্তব্য করে চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন বলেন, আপনারা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক নন, বরং ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের এক জীবন্ত সেতুবন্ধন।
ড. রাজীব রঞ্জন বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অতীতের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই সম্পর্ক বর্তমানের সহযোগিতায় আরও দৃঢ় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত। তবে এই সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত করে তোলে তরুণদের অংশগ্রহণ ও সংযোগ। আইটেক কর্মসূচি একটি চাহিদাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতা উদ্যোগ, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
একইসঙ্গে ২০১২ সালে চালু হওয়া বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন কর্মসূচি দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন এর বিভিন্ন ব্যাচের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।












