সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার»
ওভারটেক করতে গিয়ে চালক-হেলপারসহ তিনজন নিহত হবার ৩০ ঘন্টার মাথায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় এবার পিক-আপ চাপায় চার সহোদর নিহত হয়েছেন। দশদিন আগে মারা যাওয়া বাবার জন্য শ্রাদ্ধ (ক্রীয়া কর্ম) দিয়ে বাড়ি ফিরতে রাস্তা পার হতে গিয়ে মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে মহাসড়কের চকরিয়ার ডুলাহাজারার মালুঘাট রিংভং এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) সাফায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এতে নিহতরা হলেন, ডুলাহাজারা মালুমঘাট রিংভং সগীরশাহ কাটা এলাকার মৃত ডাক্তার সুরেশ চন্দ্র শীলের ছেলে অনুপম চন্দ্র শীল (৪৭), নিরুপম চন্দ্র শীল (৪৫), দীপক চন্দ্র শীল ও চম্পক চন্দ্র শীল (৩৫)।
এ সময় আরো একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তার নাম পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) সাফায়েত হোসেন জানান, ভোরে নিহতদের বাবা দশদিন আগে মারা যান। বাবার জন্য শ্রাদ্ধ (ক্রীয়া কর্ম) দিয়ে বাড়ি ফিরতে একসাথেই রাস্তা পার হচ্ছিলেন তারা। এসময় কক্সবাজারমুখী নাম্বার বিহীন একটি পিক-আপ তাদের চাপা দিলে তারা গুরুত্বর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতালে নিলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। গাড়িটি সনাক্ত করা যায়নি। মরদেহ গুলো তাদের পরিবারের কাছে রয়েছে।
বিষয়টি জানতে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে, মালুমঘাট এলাকার বাসিন্দা ডুলাহাজারা ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এম আর মাহবুব জানান, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া হতে মালুমঘাট এসে বসতি গড়ার পর সুরেশ চন্দ্র শীল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিতেন। তার ছেলেরা কুতুবদিয়ায় থেকে বাবা-মায়ের কাছে আসা যাওয়া করতো। গত দশদিন আগে ডা. সুরেশ পরলোক গমন করেন। পিতার অন্ত্যোষ্টিক্রীয়া ও শ্রাদ্ধ করতে সন্তানরা পরিবারসহ রিংভং বাবার বাসায় অবস্থান করছিল। তাদের ধর্মীয় রীতি অনুসারে ভোরে সন্তানরা শ্রাদ্ধ করতে বের হন এবং আবার বাসায় ফিরছিলেন। এসময় এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় চার সহোদর মারা যান। এ ঘটনায় হাসপাতাল ও রিংভং তাদের বাড়িতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।












