হাসিব ফেব্রু »
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কিছুতেই বশে আনতে পারছে না আওয়ামী লীগ। বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও নির্বাচনের মাঠ থেকে সরানো যাচ্ছে না তাদের। মনোনীত প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন দলের ভেতরে কতিপয় নেতারা বিদ্রোহীদের ইন্ধন দিচ্ছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী শনিবার (০৯ জানুয়ারি) দলের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। দলের অবাধ্য হলে বহিষ্কারের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
দলের নেতারা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে আসার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্রোহীরা সকল চাপ, অনুরোধ বা হুমকিকে অগ্রাহ্য করে ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না। তাঁরা নির্বাচন করবেন।
এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রতি প্রার্থীর একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। তাঁরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়।
আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়েছিল। অনেকেই করেননি। এখন দলের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
২০১৫ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত ১৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরকে নির্বাচনের মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। তাদের ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন নির্বাচন করছেন এবার।
জানা যায়, এবারের কাউন্সিলর পদে মনোনয়নের প্রাধান্য পেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। অপরদিকে বিদ্রোহীদের বেশিরভাগই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।
উল্লেখ্য, আসন্ন চসিক নির্বাচনে নিজেও মেয়র পদে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন সাবেক মেয়র আজম নাছির উদ্দিন।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন দলের মনোনীত প্রার্থীরা।
১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপার্থী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী এবারে দলীয় মনোনয়ন পাননি, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন।
তিনি জানান, আমি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচন করছি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করার পরও আমি দলীয় মনোনয়ন পাইনি। ব্যাপারটি খুবই দুঃখজনক! আমি দলের প্রতি সম্মান রাখি, শ্রদ্ধা করি দলকে। এই নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে দলীয় প্রতীকের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। আর তা আমার আছে । আমি নির্বাচন করবো।
নির্বাচনের পরিবেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সুন্দর হওয়া উচিত বলে ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর লিটন জানান, দল উপযুক্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। আমি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। দল আমাকে মনোনীত করেছে, আমিও দলকে জয়যুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ!
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা আগামীকাল শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। গত বছরের ২৭ মার্চ এ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে স্থগিত হওয়ায় আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
২০২১ চসিক নির্বাচনে দুই শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নগরের ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।
বাংলাধারা/এফএস/এইচএফ












