২৬ মার্চ ২০২৬

বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় দেশব্যাপী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সূবর্ণজয়ন্তী

বাংলাধারা প্রতিবেদন»

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের এই বিশেষ শুভক্ষণে আজ ১০ ডিসে¤¦র ‘নেভাল এনসাইন ১০ -স্মৃতিতে অম্লান বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সূবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন। এদিন দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য র‌্যালী, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, অসহায়দের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়।

সকালে খুলনায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন ও বীর বিক্রম শহীদ মহিবুল­াহ এর সমাধিস্থলে গার্র্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলে বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীতে বিপুলসংখ্যক নৌসদস্য অংশগ্রহণ করেন। এসময় ১০ ডিসে¤¦র ১৯৭১ এ পরিচালিত নৌ অপারেশন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স¥ৃতিচারণমূলক প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর হাসপাতালসমূহে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। দুপুরে তিন নৌ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দুঃস্থ, অসহায় এবং অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তাছাড়া বাদ জুমা সকল নৌঅঞ্চলের মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উলে­খ্য, স্বাধীনতার রক্তাক্ত ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারক এবং বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ তারিখে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে জড়িয়ে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অম্ল­ান স্মৃতি। ৭১ এর এই দিনেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া পদ¥া ও পলাশের চরম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও আর্থ- সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের জলসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সমুদ্র সম্পদের গুরুত্ব অনুধাবন করে ঐতিহাসিক ছয় দফায় নৌবাহিনী সদর দপ্তর চট্টগ্রামে স্থানান্তরের দাবী জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে নেভাল এনসাইন প্রদান করেন এবং একযোগে বানৌজা ঈসা খানসহ ৩টি ঘাঁটি বানৌজা হাজী মহসীন ও বানৌজা তিতুমীর এবং ৩টি জাহাজ কমিশনিং করেন। এই দিনেই বঙ্গবন্ধু বানৌজা সুরমায় প্রথম ও একমাত্র নৌবাহিনীর মহড়া পরিদর্শন করেন। জাতির পিতার প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্য হতে সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করা যুদ্ধজাহাজ পরবর্তীতে ১০ই ডিসেম্বর ১৯৭৬ বানৌজা ওমর ফারুক নামে কমিশনিং করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতায় ১৯৭৪ সালে প্রণীত হয় সমুদ্রাঞ্চল বিষয়ক আইন ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট-১৯৭৪’।

সেই ধারবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহে প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের এক বিশাল সমুদ্র এলাকা। মাত্র দুটি গানবোট নিয়ে যাত্রা শুরু করা ১৯৭১ সালের নৌবাহিনী বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দিক নির্দেশনায় আজ একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বাংলাদেশের জলসীমার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংযোজিত হয়েছে দুটি আধুনিক সাবমেরিন বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা, আধুনিক প্রযুক্তি স¤¦লিত বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধজাহাজ- ফ্রিগেট, করভেট, লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট, ওপিভি, প্যাট্রোল ক্রাফট, জরিপ জাহাজ। সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে যুক্ত হয়েছে বিশেষায়িত নৌকমান্ডো দল সোয়াড্স। এছাড়া সমুদ্রে জরুরী উদ্ধার ও টহল পরিচালনার জন্য নৌবহরে অর্ন্তভূক্ত হয়েছে মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার সুবিধা স¤¦লিত নেভাল এভিয়েশন। পাশাপাশি চলমান রয়েছে আধুনিক সারভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট সংযোজন ও কমব্যাট সিস্টেমসমূহের আধুনিকায়নের কার্যক্রম। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স¤¦লিত নতুন নতুন অবকাঠামো ও স্থাপনা।

বাংলাধারা/এফএস

আরও পড়ুন