১৩ মার্চ ২০২৬

বিলুপ্ত হচ্ছে পূর্ব রেলের ৫টি স্কুলের ৩৪টি পদ

বিশেষ প্রতিবেদক »

পূর্ব রেলের পরিচালনায় থাকা ৫টি স্কুলে বিদ্যমান ১৫৫টি পদের মধ্যে ১৪৪টি পদ কার্যকর হচ্ছে। ৫টি স্কুলে ৩৪টি শিক্ষক ও কর্মচারির পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। নতুন করে ৩৫টি পদ সৃজনের জন্য প্রস্তাব করা হলেও ২৩টি পদ সৃজনের জন্য সুপারিশ করেছে পূর্বাঞ্চলীয় সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, একাউন্টিং, ফিন্যান্স ও ইংরেজী শিক্ষক অনেকটা নেই বললেই চলে। কিছু কিছু স্কুলে অস্থায়ী বা অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়েলফেয়ার অফিসার। এমনকি মেধাবীদের ও একই পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে একজনকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিয়েও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না মেধাবী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে। স্কুলগুলোতে পড়ালেখার মান খুবই খারাপ। ৯০ দশকের পর থেকে স্কুলগুলোতে ক্রমশ পড়ালেখার মান নিম্নমুখী হওয়ায় খোদ রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পোষ্যরা পড়তে নারাজ।

এ ব্যাপারে রেলের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলাধারাকে বলেন, ৫টি স্কুলে ৩৪টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদ বিলুপ্ত হচ্ছে কি হচ্ছে না তা আমার জানা নেই। আবার নতুন করে ২৩টি পদ সৃজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমি এখনও পাইনি। তাছাড়া আমার সময়ে এ ধরনের প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, রেল পরিচালিত ৫টি স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে পড়ালেখার মান নিয়ে। বিশেষ করে একাউন্টিং, ফিন্যান্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ ও ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক ঘাটতি নিয়ে ওয়েলফেয়ার বিভাগের কোন মাথা ব্যথা নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে অস্থায়ী শিক্ষকের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কিছুদিনের জন্য পাঠদানে সংযুক্ত হলেও কিছুুদিন পর স্বল্প ও অস্থায়ী বেতনে থাকতে নারাজ।

আরও অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অবৈধ উপায়ে নিয়োগ পাওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারছেন না নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। কারণ, নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাবীদের বাদ দিয়ে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অনভিজ্ঞ ও কম মেধাবীদের নিয়োগ দেয়ায় রেলওয়ের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না।

এদিকে, শিক্ষা কার্যক্রমসহ নিয়মানুবর্তিতায়ও ঘাটতি রয়েছে। কারণ, শিক্ষকরা স্ব স্ব শ্রেণি কার্যক্রমে উপস্থিত হতে যেমন বিলম্ব করেন, তেমনি শ্রেণি কার্যক্রম শেষ না করেই বেরিয়ে আসার ঘটনাও বিরল নয়। এছাড়াও শিক্ষকদের নিয়োগ কলঙ্কিত হওয়ায় মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান ও স্কুলের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা যাচ্ছে না। ৯০ দশকের পর থেকে গত ত্রিশ বছরে রেলওয়ে পরিচালিত এসব স্কুলগুলো মেধাক্রম অনুসারে বোর্ড কর্তৃপক্ষের রেজাল্ট তালিকায় স্থান রাখতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নিয়োগকৃত শিক্ষক শিক্ষিকারা ক্লাসে পাঠদান না করে স্কুল শুরুর আগে এবং পরে স্কুল ক্যাম্পাসেই কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন।

জানা গেছে, রেলের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত ৫টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে শিক্ষক কর্মচারীসহ বিদ্যমান পদের সংখ্যা ১৫৫টি। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষক ৫টি ও সহকারি প্রধান শিক্ষক ৬টি, সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা ৪৪টি। নতুন করে ৬ জন সহকারি শিক্ষক শিক্ষিকা পদ সৃজন করে পদের সংখ্যা দাড়াচ্ছে ৫০টি। শারীরিক শিক্ষা পাঠের জন্য সহকারি শিক্ষকের ৫টি পদ সৃজনের প্রস্তাব দেয়া হলে ৫ পদের জন্যই সুপারিশ পাওয়া গেছে। কিন্তু ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টরের চারটি পদ বিদ্যমান থাকলেও সবকটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সহকারি শিক্ষক কম্পিউটার বিভাগের জন্য নতুন করে ৫টি পদ সৃজন করা হচ্ছে।

তবে কম্পিউটার বিভাগের দুটি সহকারি শিক্ষক শিক্ষিকার পদ থাকলেও সেটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। ক্লাসিক্যাল শিক্ষক হিসেবে তিনটি পদ অতীতে থাকলেও তা বিলুপ্ত করা হচ্ছে। শিক্ষিকা বা মনিট্রেস অতীতে ৫টি পদ থাকলেও সেগুলো বিলুপ্ত করে শূন্য করা হচ্ছে। সহকারি মনিট্রেস শিক্ষিকার দুটি পদও বিলুপ্ত করা হচ্ছে। সহকারি শিক্ষক আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস বিভাগের দুটি পদ বিদ্যমান থাকলেও আরও তিনটি বাড়িয়ে মোট ৫টি করা হচ্ছে। হেড মৌলভী হিসেবে ৮ জন কর্মরত রয়েছেন এসব স্কুলে। তবে দুজন বৃদ্ধির প্রস্তাবনা দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। অফিস দেখাশোনায় ৪ জন উচ্চমান সহকারির পদ ছিল এবং একটি স্কুলে উচ্চমান সহকারি না থাকায় নতুন করে একটি পদ সৃজন করে ৫টি স্কুলে উচ্চমান সহকারি পদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, লাইব্রেরিয়ান বা গ্রন্থাগারিক হিসেবে ৫টি পদই বিদ্যমান রাখা হয়েছে। তিনটি স্কুলে ল্যাবটেরি সহকারি থাকলেও বর্তমানে তা বৃদ্ধি করে পাঁচটি করা হচ্ছে। অর্থাৎ পাঁচটি স্কুলে ল্যাবরেটরি সহকারি থাকবেন। ভার্নাকুলার শিক্ষক ও জুনিয়র শিক্ষক (প্রশিক্ষিত) ২৬টি পদ থাকলেও ১৬টি বিলুপ্ত করে প্রতি স্কুলে দু’জন করে দশজন রাখা হচ্ছে। অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক চারটি স্কুলে বিদ্যমান থাকলেও আরও একটি সৃজন করে পাঁচটি স্কুলে পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

অতীতে উচ্চমান সহকারি এ একটি পদের কাজ চালিয়ে যেতেন। অতিরিক্ত এ কাজের জন্য উচ্চমান সহকারিকে কোন বেতন ভাতা প্রদানের নিয়ম ছিল না। প্রতিটি স্কুলে অফিস সহায়ক হিসাবে একজন দফতরি নিয়োজিত রয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা ৯টি পদই কার্যকর রয়েছে। যদিও একটি পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল, কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। অফিস সহায়ক হিসেবে ৫ জন, আয়া ৫ জন কার্যকর রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৩টি স্কুলে থাকলেও বাকি দুটি স্কুলের জন্য সৃজন করতে বলা হলেও কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ