২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের উল্লাস: এক অনন্য বিশ্বজনীনতা

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের উন্মাদনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবার বিশ্বকাপে সেই আবেগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও’ গ্লোবোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশি ব্রাজিলভক্তদের উচ্ছ্বাস, যা শুধু একটি দেশের প্রতি সমর্থন নয়; বরং ফুটবলের প্রতি এক গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি আবেগ, স্বপ্ন এবং বৈশ্বিক সংযোগের এক বিস্ময়কর উৎসব। ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই সত্যকেই আবারও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। উত্তর আমেরিকার স্টেডিয়ামে যখন ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করছেন, তখন হাজার হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশে সমর্থকেরা একই আবেগে কাঁপছেন, একই আনন্দে ভাসছেন। এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে ফুটবলের বিশ্বজনীন শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের আয়োজন তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বড় পর্দায় খেলা দেখা, প্রতিটি গোলের পর সম্মিলিত উল্লাস, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উদযাপন— সবকিছু মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল ছোট্ট এক ‘মিনি ব্রাজিল’। ম্যাচের ফলাফল ছিল ৩-০ ব্যবধানে ব্রাজিলের জয়, কিন্তু বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে এটি ছিল শুধু একটি জয় নয়; এটি ছিল আবেগের বিজয়।

এই উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নেইমার। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর প্রত্যাবর্তন কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেক ব্রাজিলভক্তের জন্য নেইমার শুধুই একজন ফুটবলার নন; তিনি শৈশব, স্বপ্ন এবং ভালোবাসার প্রতীক। তাই মাঠে তাঁর ফিরে আসা যেন হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রিয় চরিত্রের পুনরাগমন।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগ বিশ্ববাসীর কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও পৌঁছে দেয়। অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক কিংবা সাংস্কৃতিক দূরত্ব ফুটবলের ভালোবাসাকে কখনো থামাতে পারে না। যে দেশে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, যে দেশের জাতীয় দল বিশ্বকাপে খেলছে না, সেই দেশের মানুষও কীভাবে এই মহোৎসবের অংশ হয়ে উঠতে পারে, তার অনন্য উদাহরণ বাংলাদেশ।

ফুটবল আমাদের শেখায়, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি কিংবা ভিন্ন পরিচয়ের মানুষও একটি গোলের আনন্দে এক হয়ে যেতে পারে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উল্লাস কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়ানো- এসবই সেই ঐক্যের প্রতীক।

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, স্টেডিয়ামের আলো নিভে যাবে, কিন্তু নেইমারের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের তরুণদের যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণ করল- ফুটবল শুধু মাঠের খেলা নয়; এটি মানুষের হৃদয়ের ভাষা। আর সেই ভাষা বুঝতে কোনো অনুবাদকের প্রয়োজন হয় না।
লেখক: সম্পাদক, বাংলাধারা।

আরও পড়ুন