২০ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস: ছাত্র-শিক্ষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ওমর শরীফ  »

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে থমকে আছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশে অন্যসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে ধীরে ধীরে খুললেও মহামারি এই পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তবে এই অচল অবস্থা কাটিয়ে গত জুন মাস থেকে শুরু হয় অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম। ফেসবুক, গুগল ক্লাসরুম, জুম, ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, হ্যাং–আউট’সহ অনলাইনের নানা মাধ্যমে চলছে ক্লাস।

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কেমন তা জানতে আমরা কথা বলেছিলাম বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে, এতে পাওয়া গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ছাত্র আকাশ বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে অনেকের বাড়ি প্রত্যন্ত এলাকায়। যেখানে ঘরে ঠিকমতো মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কই থাকে না, দ্রুতগতির ইন্টারনেট তো সেখানে অসম্ভব ব্যাপার। তাই বাধ্য হয়েই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে মাঠে বসে ক্লাসে করছে। বাইরে এসেও মাঝেমধ্যেই তাদের সংযোগ কেটে যায়। ফলে লেকচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো মিস করছে অনেকে।’

‘অনলাইনে ক্লাস এবং পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আমরা সেশন জটে পড়ছি না এবং সঠিক সময়ে কোর্স শেষ হচ্ছে। তবে করোনার কারণে দীর্ঘ ৮ মাস আমার টিউশনি বন্ধ। আমার পড়াশোনার খরচ বহন করা হতো টিউশনির টাকা দিয়ে। পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিকভাবে কিছুটা সাহায্য করতাম। এখন এই সংকটকালে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর উচিত সেমিস্টার ফি হাফ অথবা মওকুফ করা’ ক্ষোভের সহিত মন্তব্য করেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র আরাফ।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি’র ইংরেজি বিভাগের একজন ছাত্রী জানান, ‘অনলাইনে শিক্ষকরা তেমন গুরুত্ব সহকারে ক্লাস নেয় না। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।’

ইউজিসি ও কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জরিপ অনলাইনে প্রকাশ হলে তাতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের হার তুলনামূলক কম। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়- ব্যয়বহুল ও ধীরগতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভ্রাট, দুর্বল নেটওয়ার্ক, স্মার্ট ডিভাইস সঙ্কট, প্রযুক্তিগত অদক্ষতা, আর্থিক অসচ্ছলতা, করোনাকালীন মানসিক অশান্তিসহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা। এছাড়াও অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে না পারা শিক্ষার্থীরা এক ধরনের বৈষম্যজনিত মনোকষ্টে ভোগেন বলেও জরিপে উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন পাঠ্য ব্যবস্থাকে কার্যকরী করতে হলে ইন্টারনেট সেবাকে আরও উন্নত করার কোন বিকল্প নেই। এছাড়া দেশের সকল জেলা, গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানিগুলোকে স্বল্পমূল্যে প্যাকেজ নির্ধারণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখ থেকে আমাদের অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। প্রতিটা শিক্ষার্থীর শতভাগ অংশগ্রহণের জন্য মাসিক ১৫ জিবি করে বরাদ্দ দিয়েছি আমরা। এই উদ্যোগ অনলাইন পাঠ্যদান কর্মসূচীতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।’

অনলাইনে পড়াশোনার মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার জুয়েল দাশ জানান, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে সঠিক ভাবেই পড়াশোনা হচ্ছে। ইউজিসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ক্লাস এবং বিভিন্ন এসাইনমেন্ট নিচ্ছি। তাছাড়া অনলাইনে পড়াশোনার এই চর্চা কিন্তু নতুন নয়। করোনা মহামারির অনেক আগে থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন হত।’

বাংলাধারা/এফএস/ওএস/এআর

আরও পড়ুন