মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিক গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য ক্রয় করতে অনীহা দেখিয়ে আসছে। এদিকে, ঋণ দিতে সঠিক উদ্যোক্তা পাচ্ছে না বিসিক। ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা ঋণের আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারছে না। তথ্য ও ঋণের জামিনদার দিতে না পারায় বিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঋণ প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, দেশীয়রা বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি নির্ভর না হতেই বিসিকের উদোক্তারা কাজ করে যাচ্ছে। গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সীমিত পরিসরে পণ্য উৎপাদন করছে। কিন্তু সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় বিসিকের আওতায় থাকা অনেক সাব কন্ট্রাক্টি প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। করোনা মহামারীর এ সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে সরকার ঋণ প্রণোদনা ঘোষণা করলেও আগ্রহী হচ্ছে না অনেক উদ্যোক্তা। এর মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণের জামিনদার না পাওয়া।

অভিযোগ উঠেছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষুদ্র পরিসরে উৎপাদন অব্যাহত রাখলেও উৎপাদিত পণ্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা অপ্রতুল। বিসিকের আওতায় থেকে চট্টগ্রামস্থ শিল্প সহায়ক কেন্দ্র থেকেও পরামর্শ নিচ্ছে। বিসিকের ৫ বছর মেয়াদী নিবন্ধন নিয়ে সে সঙ্গে ৩ বছর মেয়াদী সাব কন্ট্রাক্টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে না। একত্রিশটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিসিকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। দেশে প্রায় ১৮ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে এ পর্যন্ত বিসিকের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর মাঠ পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিনিয়োগের অভাবে স্বচ্ছল প্রতিষ্ঠানও রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে।
বিসিকের পক্ষ থেকে মাত্র ভাড়াটিয়া হিসাবে গড়ে উঠা উদ্যোক্তাদের এক লাখ টাকা এবং ভূমি মালিক হিসাবে গড়ে ওঠা উদ্যোক্তাদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয় বিসিকের আওতায় থাকা শিল্প সহায়ক কেন্দ্র থেকে। এক্ষেত্রেও ঋণ নিতে নানা ডকুমেন্ট আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করলেও ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না। এ ধরনের ঋণে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসাবে দেখা যাচ্ছে ঋণের জামিনদার না পাওয়া।

বিসিকের তরফ থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও ঋণের জামিনদার সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমন শর্ত পূরণ করা যাচ্ছে না। আবার বিসিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা কোন ব্যবসায়ীকেও জামিনদার হিসাবে গ্রহণ করছে না। ফলে বিসিক ঋণ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সঠিক উদ্যোক্তা পাচ্ছে না।
এদিকে, করোনাকালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঋণ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। চার’শ কোটি টাকার ঋণ প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষিত হলেও সিডিউল ব্যাংকগুলো চুপসে ছিল। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নানা শর্ত দিয়ে ঋণ প্রদানের ঘোষণা দেয়ার কারণেই ব্যাংক থেকেও ঋণ পাইনি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, কোন জামিনদার ছাড়াই অথবা বেসরকারি পর্যায়ে বা পরিবারের সদস্যদের জামিনদার হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা পেলেই সরকারি ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ উপভোগ করতে পারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বিসিকের ঢাকাস্থ প্রধান কার্য্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রণোদনা গ্রহণে বিসিকের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। এতে ১০ জনের গ্রুপ করে প্রত্যেকে প্রত্যেকের জামিনদার হয়ে সরকারি ঋণ প্রনোদনা গ্রহণ করতে পারেন। কারণ, ঋণের জামিনদার না থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক হাজার হাজার কোটি টাকার মালিককে হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। পরবর্তীতে এসব ঋণ খেলাপীর তালিকায় চলে আসছে। কিন্তু বিসিকের কোন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গৃহীত ঋণ খেলাপীর নজির নেই।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












