বাংলাধারা ডেস্ক »
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলমান সেমিস্টারের ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে নিতে পারলেও জুলাইয়ের আগে নতুন সেমিস্টারের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে জুনে। নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়গুলোকে এমন নির্দেশনাই দিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল অনলাইনে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চলমান অচলাবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্দেশনা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয় ইউজিসিকে। সে আলোকে একটি খসড়া নির্দেশনা তৈরি করেছে ইউজিসি। খসড়াটি ইউজিসির চেয়ারম্যান অনুমোদনের পর এ সপ্তাহেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে ইউজিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্দেশনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয় ইউজিসিকে। সে আলোকে ইউজিসির সদস্যরা একটি খসড়া নির্দেশনা করে চেয়ারম্যান স্যারের কাছে পাঠিয়েছেন। চেয়ারম্যান স্যার নির্দেশনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেটি চিঠি আাাকারে পাঠানো হবে।
খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চলমান সেমিস্টারের ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে নেয়া যাবে। তবে নতুন কোনো সেমিস্টারের কার্যক্রম আগামী জুলাইয়ের আগে শুরু করতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতির জন্য মার্চ থেকেই বিভিন্নভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যদিও ইউজিসির নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী তারা জুনের আগে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না।
আর অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা বিষয়ে তিনটি উপায়ের যেকোনোটি অনুসরণ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে একটি উপায় হলো অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস-পরীক্ষা দুটিই নেয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর ব্যবহারিক পরীক্ষা কোনোভাবেই অনলাইনে নেয়া যাবে না। পাশাপাশি অনলাইন পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয় উপায়টি হলো অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস সম্পন্ন করে পরবর্তী সেমিস্টারের কোনো এক সময় পরীক্ষা নিয়ে নেয়া। এক্ষেত্রে বড় পরিসরে পরীক্ষা নিতে প্রতিবন্ধকতা থাকলে এর আকার সীমিত করা যাবে। আর তৃতীয় উপায়টি হলো যেসব বিশ্ববিদ্যালয় করোনা পরিস্থিতির আগে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ক্লাস সম্পন্ন করেছে তারা এখন কোনো ক্লাস-পরীক্ষা না নিলেও চলবে। পরবর্তী সেমিস্টারে বাকি কার্যক্রম সমন্বয় করতে পারবে।
একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে খসড়ায়। এতে বলা হয়েছে, মানবিক কারণে টিউশন ফির জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর যেন কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আহ্বান জানানো হবে। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্ব বা চাকরিচ্যুত করা থেকে বিরত থাকার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হবে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












