১৫ জানুয়ারি ২০২৬

ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

বোয়ালখালীতে আক্রান্ত হয়েছে ১০১৫ হেক্টর ফসলী জমি

গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোপা আমন, আমনের বীজতলা, আঊশ, শরৎকালীন সবজি ও ফল বাগানসহ ১ হাজার ১৫ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

রোববার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে , এ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কৃষকেরা বলেন, গত এক মাস ধরে জমিতে বীজতলা তৈরি, বীজ ধান বপন, চারা পরিচর্যা, সার প্রয়োগ করে চারা রোপনের উপযুক্ত করেছি। গত এক সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০১৫ হেক্টর জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৬০ হেক্টর ফসলী জমি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০৮ হেক্টর। এতে ১ হাজার ৮৮৫ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ টাকার।

এছাড়াও ৬৭৫ হেক্টর আমন ধানের জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫০ হেক্টর। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২৫ হেক্টর। এতে ১ হাজার জন আমন চাষীর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৯০ লাখ টাকার। আমনের বীজ তলা নষ্ট হয়েছে ১১০ হেক্টর জমির। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৫০ হেক্টর জমির বীজতলা। ৪৮০ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫ হেক্টর শরৎকালীন সবজির ক্ষেত। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬০ জন কৃষক। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬৫ লাখ টাকা। নষ্ট হয়েছে ৩২ হেক্টর আউশ ধানের ক্ষেত। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১০ হেক্টর। এতে ১০৫ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২২ লাখ টাকা। উপজেলার ২০ হেক্টর ফল বাগানের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হেক্টর। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হেক্টর ফল বাগান। এতে ৪০ জন কৃষকের ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, উপজেলায় ভারী বর্ষণে আউশ, আমন, আমনের বীজতলাসহ পেঁপে বাগান, মাল্টা বাগান ও আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের স্বল্প সময়ের মধ্যে আবাদে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। বন্যা পরবর্তী জমি আবাদে পরামর্শ প্রদান করছেন। সরকারিভাবে সহায়তা পেলেই তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো হবে বলে জানান এই কৃষিবিদ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ