বোয়ালখালী প্রতিনিধি »
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছে না ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলো (এনজিও)। কিস্তি আদায়ে এনজিও সংস্থার চাপের মুখে রয়েছেন ঋণগ্রস্তরা। চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতাদের মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরেটির ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ আদায়ের ব্যাপারে নীতিমালা জারি করলেও মানার অভিযোগ রয়েছে এনজিও সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে মে মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ছিলো। আয় রোজগারের পথ ছিলো বন্ধ। এরই মাঝে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে ঋণগ্রস্থ পরিবারগুলোকে। সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ সহায়তা এবং নিজেদের হাতেপাতে থাকা অর্থ দিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার তফসিলি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানে ৯ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করলেও গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা প্রকার ভেদে ২৭ থেকে ৪০ শতাংশ সুদ আদায় করছে। আর এসব সংস্থা থেকে ঋণ নিচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। ফলে এসব ঋণ গ্রহণে ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না।
বোয়ালখালী পৌরসভার চরখিদিরপুর এলাকার এক রিক্সাচালকের স্ত্রী স্বামীর কাছে কিস্তির টাকা চাইতে গিয়ে টাকা দিতে না পারায় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এনজিও কর্মীর সামনে স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন ঐ রিক্সাচালক। এ ঘটনা শুধু চরখিদিরপুর নয়, পুরো উপজেলা জুড়ে কিস্তি নিয়ে ঋণগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারে নিত্য ঘটনা।
ঋণ গ্রহীতাদের অভিযোগ, কিস্তি আদায়ের জন্য এনজিও সংস্থার লোকজন খুবই খারাপ ভাষায় আচরণ করে থাকেন। গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের কিস্তি না দেওয়ায় এর জরিমানাসহ দাবি করছেন। তারা বলছে, কিস্তি না দিলে সঞ্চয় ও ডিপিএসের টাকা নিয়ে সমস্যা হবে বলে ভয়ভীতি দেখান। মহামারি করোনার এ দুঃসময়ে এনজিও সংস্থার অমানবিক আচরণ তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ ঋণগ্রহীতাদের।
উপজেলার সদরের কাপড় ব্যবসায়ী পলাশ দত্ত বলেন, গত ৪ মাস দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন খোলা থাকলেও গ্রাহক নেই। মহামারি করোনার প্রার্দুভাবের কারণে সীমিত পরিসরে কোনো রকমে ব্যবসা চালু রেখে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবার পরিজন চলছি। এনজিও সংস্থাগুলো এরই মধ্যে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের বলেছি- ঋণ নিয়ে কাপড় এনে বিক্রি করতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, কিস্তি যদি প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার টাকা হয় তার অর্ধেক পরিশোধের সুযোগ দিতে। তাতেও তারা রাজি হচ্ছেন না।
তবে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি সুনির্দিষ্ট নিদের্শনায় বলা হয়েছে- ‘সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত কিস্তি আদায়ে চাপ সৃষ্টি বা বাধ্য করা যাবে না। উল্লেখিত সময়ে কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিস্তি প্রদান করেন তা গ্রহণ করা যাবে।’ এছাড়া কিস্তি না দিলে তা বকেয়া অথবা খেলাপী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিও সংস্থার ঋণ আদায়কারী কর্মকর্তা বলেন, আমরাও পরের চাকুরী করছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে রয়েছে আমাদের ওপর। নিজেদের চাকুরী বাঁচাতে কিস্তি আদায়ে জেনে বুঝেও কাজ করতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কিস্তি আদায়ে ঋণ গ্রহীতাদের বাধ্য করা যাবে না। স্বেচ্ছায় কেউ ঋণ পরিশোধে কিস্তি প্রদান করলে নিতে পারবে এনজিও সংস্থাগুলো। না দিলেও তা বকেয়া বা খেলাপী হিসেবে গণ্য করতে পারবে না। এ সংক্রান্ত নিদের্শনা সংশ্লিষ্ট দপ্তর দিয়েছে। সংস্থাগুলোকে সরকারি নির্দেশনা মানার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












