বোয়ালখালী প্রতিনিধি »
বোয়ালখালীতে প্রতিনিয়ত টুকটুকি টেম্পো উল্টে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। তবে এসব দুর্ঘটনায় থানায় মামলা বা অভিযোগ দেন না ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার কানুনগোপাড়া ও শাকপুরা মিলিটারি পুল থেকে নগরীর বহদ্দারহাট পর্যন্ত চলাচল করে সিএনজি চালিত টুকটুকি নামের সবুজ রঙের এ টেম্পো। ১৪-১৬ জন যাত্রী নিয়ে এ টেম্পোগুলো চলাচল করে।
এ টেম্পোগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় এবং টেম্পোরগুলোর চালকের আসনে থাকেন কিশোর বয়সের ছেলেরাই। দ্রুত গতিতে চলা এসব টেম্পো সড়কে হঠাৎ ব্রেক কষে উল্টে প্রাণ সংকটে পড়েন যাত্রী সাধারণ। পঙ্গুত্ব বরণও করেছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও এ বিষয়ে নজরদারি নেই প্রশাসনের।
জানা গেছে, গত বছরের ২০ জুলাই বিকেল ৩টার সময় কালুরঘাট সেতুর নগর প্রান্তে সিএনজি চালিত টেম্পো উল্টে প্রাণ হারান আবু বক্কর (৫০) নামের এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। প্রবাসী আবু বক্কর মেয়ের শ্বশুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। ঘরে থাকা বৃদ্ধ মায়ের জন্য নিয়েছিলেন পান। টেম্পোর নিচে চাপা পড়া আবু বক্করের প্রাণ গেলেও ছাড়েননি হাতে থাকা সেই পানের থলে। সেই সময় আহতও হয়েছিলেন ৫ যাত্রী।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি বছরের গত ২৫ মার্চ রাত পৌণে ১২টার দিকে উপজেলা গোমদন্ডী ফুলতলে টেম্পো উল্টে প্রাণ হারান নগরীর ফলমন্ডির দোকান কর্মচারী আবদুস সাত্তার (২৯) নামের এক যুবক। তিনি পশ্চিম গোমদন্ডী টেক্সঘর এলাকার বাসিন্দা। ওই সময় আহত হন আরো ৪ যাত্রী। চাচাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন আবদুস সাত্তারসহ এলাকার লোকজন।
এর সপ্তাহ ব্যবধানে গত ৩ এপ্রিল রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব কালুরঘাট এলাকায় টেম্পো উল্টে মারা যান মো. সেলিম (৫২)। নগরী থেকে টেম্পোতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। মো. সেলিম উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি।
পূর্ব গোমদন্ডীর বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, হরহামেশা এসব টেম্পো দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। প্রশাসনের নিরবতায় অদক্ষ চালক গাড়ি চালানোর কারণে অকালে প্রাণ হারাতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।
অভিযোগ রয়েছে, এসব টেম্পো এক শ্রেণি অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে এবং প্রশাসনকে টাকা দিয়ে সড়কে চলাচল করছে। বহদ্দারহাট-বোয়ালখালী সড়কে অন্তত শতাধিক টেম্পো চলাচল করে। যদিও এসব টেম্পো বা চালকের কোনো বৈধতা নেই।
টেম্পো চালক মো. নেচার জানান, সিএনজি চালিত এসব টেম্পো বিআরটিসি নাম্বার পাচ্ছে। সব টেম্পো দেশের নয় বিদেশ থেকেও আসে। যদিও বর্তমানে আমদানি বন্ধ রয়েছে। অরজিনাল প্রতিটি টেম্পো নাম্বারসহ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম পড়ে। আবার ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়ও মেলে এসব টেম্পো। গতিতে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৮০-১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা যায়। চালকের অদক্ষতার কারণে বা যান্ত্রিক ত্রুটির ফলেও এ টেম্পো উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে জানান তিনি।
বোয়ালখালীতে বেশ কয়েকটি টেম্পো উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটলেও এ সংক্রান্ত কোনো ধরণের তথ্য নেই থানায়। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম বলেন, টেম্পো উল্টে হতাহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি কেউ। ফলে এ ক্ষেত্রে পুলিশের কিছুই করার থাকে না।












