২৬ মার্চ ২০২৬

বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরো আবাদের ধুম

দেবাশীষ বড়ুয়া রাজু,বোয়ালখালী »

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চলছে বোরো’র আবাদ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত উপজেলার কৃষক-কৃষাণিরা। ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ, কোদাল দিয়ে মাটি কেটে জমি সমান করা, জমিতে সার দেয়া বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে রোপন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যেন দম ফেলার ফুসরত নেই কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার বোয়ালখালীতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর। বাকিগুলো অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পূরণ হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ।

তিনি জানান, বোয়ালখালীতে মোট ফসলি জমির পরিমাণ ৬ হাজার হেক্টর। তৎমধ্যে ভুট্টা, শরিষা, কচু, শাক-সবজি ও ডাল জাতীয় শষ্যের আবাদ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২শ হেক্টর। সেচ, জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থকায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি পতিত রয়েছে। কৃষি খাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উদ্যোগী হলে এসব পতিত জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পৌরসভা, কধুরখীল, পোপাদিয়া, শাকপুরা সারোয়াতলি ও পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নে এসব জমির পরিমাণ বেশি বলে জানান এ কর্মকর্তা।

উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ও আমুচিয়া ইউনিয়নের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ দিচ্ছে, কেউ দিচ্ছে সার, আবার কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে দিচ্ছে। এতে বসে নেই কৃষাণীরাও।

জৈষ্ঠপুরা গ্রামের কৃষক ধনা বড়ুয়া এবার ৬০ শতক জমিতে বোরো চাষ করছেন। সেচ, ট্রাক্টর, সার, কীটনাশক ও মুজুরিসহ সাড়ে ২২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৫০ আঁড়ি ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন এ কৃষক। তবে সরকারি সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় চাষাবাদ থেকে কৃষকেরা আগ্রহ হারাচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই কথা জানিয়েছেন পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকলিয়া এলাকার কৃষক মো. ইসকান্দর, মো. ইসমাইল, মো. মিয়া, মো. আবুল কাসেম ও শ্রীপুর গ্রামের কৃষক ছালে আহম্মদ।

এবার বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ২৮, ২৯, ৪৭, ৬৭, ৫৮, ৭৪, ৮১, ৮৯, ৮৮, ৯২, এসএল ৮ ও ১২০৩ জাতের ধান মাঠে চাষ হচ্ছে। এছাড়াও হাইব্রিড আগমনি ও বালিয়া জাতের ধান রোপন করছেন কৃষকরা। ফলন বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যার মধ্য দিয়ে উচ্চ ফলনশীল এসব ধান চাষে কৃষক অবশ্যই লাভবান হবে জানান উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা উদয়ন দেব।

আরও পড়ুন