বাংলাধারা ডেস্ক »
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশনে ভায়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৬ জনের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে । তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।কেউ ফিরছিলেন একা, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে। কেউ আবার সন্তানের প্রিয় মুখটি দেখতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সবই এখন কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গেছে। সবকিছুতেই এখন নীরবতা।
সন্তানকে আনতে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন হবিগঞ্জের আলী মো. ইউসুফ। কিন্তু ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় তার জীবন প্রদীপ নিভে গেল । বাবার কাছে আর কখনো বায়না ধরবে না দেড় বছরের ছোট্ট মেয়েটি।মো. ইউসুফ প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মো. ইউসুফ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তারা।
জীবিকার তাগিদে সিলেট থাকতেন চাঁদপুরের মজিবুর রহমান। বেশ কিছুদিন পর স্ত্রীকে সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে ফিরছিলেন তিনি। তবে ট্রেন দুর্ঘটনায় সব ওলট-পালট হয়ে গেছে।
নিহত বাকিদেরও হয়তো এরকম গল্প আছে। দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরলেও যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না অনেকে। গুরুতর জখম নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছেন তারা ।হতাহতের বাইরে যারা আছেন, তারা সবাই ভয়ানক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে আহত যাত্রী কাউছার (২৮) জানান, যাত্রীদের অনেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ। মুহূর্তেই পুরো ট্রেন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ভেতর থেকে বের হওয়ার রাস্তাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে সময় চোখের সামনে অনেককে মারা যেতে দেখেন তিনি। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও জখম গুরুতর হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) জানান, মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। স্থানীয়রা তাকে টেনে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
এদিকে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ এলাকায় তুর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আর আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হবে।তূর্ণা-নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












