তারেক মাহমুদ »
আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা/কারা যে ডাকিল পিছে। বসন্ত এসে গেছে।’-একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন, অন্যদিকে ভালোবাসার রঙ-এ এক দারুণ আবহ। যেন ভালোবাসার রঙ মেখেই সেজেছে বসন্ত। বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় উৎসবের পাশাপাশি ফুলের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে ফুল ক্রেতাদের।
নগর ঘুরে দেখা যায়, নগরীর প্রতিটি ফুলের দোকান সরগরম। ব্যস্ত সময় পার করছে মৌসুমি ও স্থায়ী ফুল ব্যবসায়ীরা। অন্যদিনের তুলনায় ফুলের দাম দুইগুণ-তিনগুণ বেশি হাঁকা হলেও এতে ক্রেতাদের খুব একটা আপত্তি নেই। পছন্দমত ফুল কিনেই ফিরছে সবাই। তবে ফুল ক্রেতাদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি।
দেশি প্রতিটি লাল গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা, বিদেশি লাল গোলাপ, সাদা, গোলাপী গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। রজনীগন্ধার প্রতি স্টিক ১৫ থেকে ২৫ টাকা, একগুচ্ছ সাদা চন্দ্রমল্লিকা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, লাল, নীল, অন্যান্য রংয়ের চন্দ্রমল্লিকা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। গ্লাডিওলাস প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকা, জারবেরা প্রতিটি ২০ থেকে ২৫ টাকা, হাইব্রিড ১৫ টাকা, গাদাফুল ১০০টি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া মেয়ের ক্রাউন (মাথার রিং) ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিপিস। সব ধরনের ফুলের ঝুড়ি ও মুকুটের দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। মানভেদে ফুলের ঝুড়ি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।
এবার চীনে কারোনা ভাইরাসের কারণে ওই দেশ থেকে পর্যাপ্ত ফুল আমদানি না হওয়ায় সেই সুযোগও কাজে লাগাচ্ছে ফুল ব্যবসায়ীরা। ৮০ টাকার চায়না লিলি ফুল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, চায়না কান্ডিশন ও অর্কিড সাধারণত প্রতি পিস ৮০ টাকায় হয়। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। মানভেদে চায়না ফুলের দাম ওঠেছে ২০০ থেকে ৫০০-৬০০ টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রিমা বাংলাধারাকে জানান, খুব ইচ্ছা ছিল ফুল দিয়ে খুব বড় করে খোঁপা করবো। ফুলের যা দাম! ইচ্ছা থাকলেও কিনতে সাহস পাচ্ছি না। বিশেষ দিন আসলেই ব্যবসায়ীরা কোনও না বাহানা দিয়ে ফুলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
ফুল বিক্রেতা তওহিদ বাংলাধারাকে জানান, ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসব এবার একসাথে হওয়ায় ফুলের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। তার সাথে কারোনাভাইরাসের জন্য চীন থেকে ফুল তেমন আসছে না। তাই দেশিয় ফুল চাষীরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমাদেরও বাড়তি দামে ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












