বাংলাধারা প্রতিবেদন »
ভারতের ভিসা আবেদনে কেউ যেন ভুয়া কাগজ-পত্র না দেয় সে জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিন্দ ব্যানার্জি। বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ অনুরোধ করেন।
অনিন্দ ব্যানার্জি বলেন, আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ ভিসা আবেদনের জন্য কেউ ভূয়া কাগজ-পত্র সাবমিট করবেন না। আমরা বুঝতে পারি কোনটা ভূয়া কোনটা আসল। একটা ভিসা যদি ২বার প্রসেস করতে হয় তাহলে আপনাদের টাকা নষ্ট আর আমাদের ও সময় নষ্ট। যদি কোন কাগজ না থাকে তাহলে একটা চিঠি লিখে দিবেন। এর উপর নির্ভর করে আমরা আপনাদের ভিসা দেবার ব্যবস্থা করবো। তাবে একটা ভালো খবর আমরা যখনই এ ভিসার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি তারপর থেকে অনেক অংশে এটা কমে গেছে। কিন্তু এটা জিরোতে নামলে খুবই ভালো হয়।
তিনি বলেন, আপনাদের ভিসা সম্পর্কে কিছু তথ্য দিচ্ছি। ২০১৬ সালে আমরা চট্টগ্রামের এ অফিস থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ভিসা দিয়েছিলাম। ২০১৭ সালে সেটা বেড়ে হয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার। ২০১৮ সালে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার এবং ২০১৯ সালে এটি ২ লক্ষ বা ২ লক্ষ ২০ হাজারে পোঁছাতে পারে।
জানুয়ারি মাসের পর থেকে আমাদের চট্টগ্রামের অফিসে আর আগের মতো ভিড় হচ্ছেনা জানিয়ে তিনি বলেন, কেন হচ্ছে না সেটা আমি আপনাদেরকে বলছি। এবছর আমাদের সবার প্রচেষ্টায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালীতে আর তিনটি নতুন ভিসা কালেকশান সেন্টার খুলেছি। যার ফলে এ তিন এলাকার মানুষ আর চট্টগ্রামে আসেন না। এর কারণে আপনাদের ভিসা দ্রুত প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। এটি করার জন্য আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তারপরও আমি সফল হয়েছি এর জন্য আমার ভালো লাগে। এবিষয় কুমিল্লার এমপি সাহেব আমাকে বলেছিলেন, এর আগে যারা এখানে এসছেন সবাই শুধু কথা দিয়ে গেছেন কিন্তু আপনি তা করে দেখালেন।
এসময় তিনি বলেন, আর একটা বিষয় হলো আপনাদের ঐতিহ্যের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই। আপনাদের চট্টগ্রামের সংস্কৃতিটা কোলকাতায় যারা খুবভালো করেন তাদের সমতূল্য। আপনাদের থিয়েটার স্টান্ডারও খুব ভালো। আর আপনাদের পেইন্টিং গুলা খুবই মনোমুগ্ধকর। আমরা আপনাদের এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে সবসময় পাশে ছিলাম আছি থাকবো। আমাদের উপমহাদেশের যুবসমাজ যে মাদকাসক্ততে জড়িয়ে পরছে সেটা বন্ধ করতে অবশ্যেই কালচারের উপর বেশি নজর দিতে হবে।
ভারতে পড়তে যাবার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা যারা ভারতে পড়তে যান বেশীরভাগ সবাই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ইচ্ছুক। আমাদের ভারতে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ থেকে দেড় লক্ষ মানুষ এ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়তে আবেদন করে । আমরাতো আর সবাইকে সুযোগ দিতে পারিনা। আপনারা ফাইনান্সে বা কালচার বিষয়ে পড়তে চান তাদের জন্য ও আমাদের দেশে স্কলারশীপের ব্যবস্থা আছে। আপনারা যে বিষয়ে পড়তে চান তার জন্য আবেদন করতে পারেন। যে সকল বিষয়ে বাংলাদেশ ভালো শিক্ষাদেয় ওইসব বিষয়ে স্কলারসীপের আবেদন করে লাভ নাই। আপনাদের দেশে ইংরেজি, সাংবাদিকতা এসব বিষয়টা একটু পিছিয়ে আছে। আপনারা চাইলে এগুলাতে আবেদন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের দেশে যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেখানে ভারত সবসময় পাশে ছিলো। শুধু কি যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে? যুদ্ধের পর দেশেকে পূনরগঠিত করতে ভারত অনেক অবদান রেখেছিল। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জি বলেছেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ঝুঁকি অনেকটা মোকাবেলা করতেও সক্ষম হচ্ছে-এত সবকিছু অর্জন সম্ভব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পরিশ্রমের ফলে।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসাথে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের ভারতে প্রশিক্ষণ কর্মশালাসহ পেশাগত মানোন্নয়নে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে ভারতীয় দুতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বপন মল্লিক, প্রথম আলোর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যুরো প্রধান সমীর কান্তি বড়ুয়া।
এসময় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী,
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি












