তারেক মাহমুদ »
নগরীর ছোটপুল সিটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র ইয়ামিন। আগামী ১৭ নভেম্বর পিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা তার। নিয়মিত স্কুল, কোচিং যাওয়ার পাশাপাশি আসন্ন পরীক্ষাকে ঘিরেই চলছিল তার দূর্দান্ত প্রস্তুতি। হঠাৎ অজানা এক রোগ কাল বৈশাখী ঝড়ের রুপে এসে লন্ডভন্ড করে দেয় ইয়ামিনের জীবন। সন্তানকে নিয়ে লালিত স্বপ্ন আজ দু:স্বপ্নে পরিনত হয়েছে ইয়ামিনের বাবা-মায়ের। ভুল চিকিৎসায় আজ ঢাকার এ্যাপেলো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ছেলেটি। অসহ্য যন্ত্রণা সইতে না পেরে হাসপাতালের বিছানায় কাঁদতে কাঁদতে ইয়ামিন বলছে, ”আমাকে মেরে ফেলো, আমি আর এ কষ্ট সইতে পারছি না।”
ইয়ামিন ছোটপুল ব্রীক ফীল্ড রোড এলাকার ইয়াকুবের ছেলে।
ইয়ামিনের চাচা বাবুল বাংলাধারাকে জানায়, গত ৩১ অক্টোবর স্কুলে ছিলো ইয়ামিন। হঠাৎ চোখে যন্ত্রনা শুরু করলে বাসায় চলে আসে। ওইদিন স্থানীয় ডাঃ সৈয়দ মোহাম্মদ জাফর হোসাইনকে দেখানো হয়। বাবুলের অভিযোগ, কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এন্টিবায়েটিক ঔষধ প্রয়োগ করে ডাক্তার। ঔষধ খাওয়ার পর পুরো শরীরে লাল বিচি দেখা দেয়। অসহ্য যন্ত্রনায় চিৎকার করতে থাকে ইয়ামিন। পরবর্তীতে ইসলামিক ব্যাংক হাসপাতাল, এরপর ২ নভেম্বর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এরপর ৪ নভেম্বর ঢাকা এ্যাপোলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইয়ামিনের শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, রোগীর অবস্থা গুরুতর। ঔষধের পাশ্বপ্রতিক্রিয়ায় এই অবস্থা হয়েছে ইয়ামিনের।
এ্যাপোলোর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঔষধের পাশ্বপ্রতিক্রিয়ায় ইয়ামিনের এই অবস্থা। প্রসাবের সাথেও রক্ত বের হচ্ছে। আল্লার উপর ভরসা করা ছাড়া কোন উপায় নেই। এমন খবরে ইয়ামিনের পরিবার, স্বজন এবং এলাবাসীর মাঝে হতাশা এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ্যাপোলোর চিকিৎসকরা আরো জানিয়েছেন, ঔষধের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে এই কঠিন রোগের উৎপত্তি। যার নাম স্টিভেন জনসন সিনড্রোম (steven johnson syndrome)।
এদিকে, ডাঃ সৈয়দ মোহাম্মদ জাফর হোসাইন এর বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় ইয়ামিনের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল বাংলাধারাকে জানান, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আমরা এই ব্যাপারে তদন্ত করে দেখছি।
বিষয়টি জানতে ডাঃ সৈয়দ মোহাম্মদ জাফর হোসাইন এর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












