বিশেষ প্রতিবেদক »
টেন্ডারের ভ্যাট নিয়ে ত্রিমূখী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী সরবরাহের বিপরীতে টেন্ডার মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অর্ন্তভূক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। ফলে ঠিকাদার বা সরবরাহকারীকে বিল পরিশোধের সময় হিসাব বিভাগ উৎসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট ও ট্যাক্স কর্তন করে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করছে। আবার এ ধরনের ভ্যাট পরিশোধের কয়েকদিন পর অর্থ বিভাগ ওই ভ্যাট পরিশোধের রিটার্ন দাখিলের প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, লকডাউনে সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর বিশেষ করে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় ঠিকাদার ও সরবরাহকারিরা ভ্যাট রিটার্ন সার্টিফিকেট নিতে পারছেনা। ফলে প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের মথ্যে মধ্যে ভ্যাট সার্কেল দফতরে জমা দিতে পারছে না। এতে জরিমানা গুণতে হচ্ছে সরকারী কাজের বিপরীতে ভ্যাট প্রদানকারীকে।
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার বা সরবরাহকারীরা উৎসস্থলে ভ্যাট প্রদান করলেও ভ্যাট সার্কেল অফিসের গাফিলতি ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দায়বদ্ধতা বেড়ে যাচ্ছে ভ্যাট প্রদানকারীর। প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর অধীনে থাকা আঞ্চলিক দফতরে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। অন্যথায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের জন্য অনলাইনে অটো সফটওয়্যার বসানো হয়েছে। যা প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখ অতিবাহিত হলেই ভ্যাট প্রদানকারীর একাউন্টে প্রদেয় হয়ে যাচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন দফতরে যে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত তারা ত্রিমুখী জটিলতার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। কারণ, ভ্যাট প্রদানকারীরা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরপত্র অনুযায়ী চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ওর্য়াক অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্য সম্পাদনের পর চুক্তিমূল্য অনুযায়ী বিলের অর্থ গ্রহণ করেন হিসাব বিভাগ থেকে। কিন্তু বিলের অর্থ গ্রহণকালে হিসাব কর্মকর্তা বা অর্থ উপদেষ্টার দফতর সরবরাহকারী বা ঠিকাদারের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ওপর নির্দিষ্টহারে ভ্যাট কর্তন করে থাকে। তবে এই ভ্যাট সরবরাহকারী প্রদত্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকায় উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তন করা হয়। পরবর্তীতে ভ্যাট প্রদানকারীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভ্যাট প্রত্যয়ন না দিয়ে অর্থ উপদেষ্টার দফতর থেকে ভ্যাট সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হয়। এতে ভ্যাট প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তন হলে সরকারের কোষাগারে জমাকৃত ভ্যাটের পরিমাণ কম হয়। আবার উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তন করা না হলে ভ্যাট সার্কেল কর্মকর্তার হিসাব অনুযায়ী ভ্যাটের পরিমাণ বেশি হয়। মূলত উৎসস্থলে এবং চুক্তিমূল্যের ওপর ভ্যাট গণনায় ভ্যাটের পরিমাণে অসঙ্গতি দেখা দেয়। এদিকে, ভ্যাট প্রদানকারী প্রাপ্ত রিটার্ন দাখিলের জন্য ভ্যাট সার্কেল অফিসে জমা দিয়ে গিয়ে আরেক দফায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কারণ, ভ্যাট সার্কেল কর্মকর্তা চুক্তিমূল্যের ওপর সরাসরি নির্দিষ্টহারে ভ্যাট আদায়ের দাবি জানাচ্ছেন।
অপরদিকে. রেলের ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রামে পলোগ্রাউন্ডস্থ অর্থ উপদেষ্টা ওই হিসাব অধিকর্তার দফতর থেকে যে সব সরবরাহকারী বা ঠিকাদার বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন অথবা কর্মযজ্ঞের বিপরীতে উৎসস্থলে ভ্যাট প্রদান করে আসছে তারা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে। কারণ, অত্র দফতরে উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পর সিআরবিস্থ অর্থ উপদেষ্টার বুক ট্রান্সফার বিভাগ থেকে প্রদত্ত ভ্যাটের রিটার্ন সনদ নিতে হচ্ছে। উৎসস্থলে ভ্যাট কর্তনের পর এই রিটার্ন সনদ নেয়া পর্যন্ত সপ্তাহখানেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভ্যাট সার্কেল দফতরে এই রিটার্ন গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।
কারণ, উৎসস্থলে ভ্যাট ও ঠিকামূল্যের ওপর নির্দিষ্টহারে ভ্যাট নির্ধারণে তফাৎ থাকায় ভ্যাট কর্মকর্তা রিটার্ন গ্রহণ করছেন না। এক্ষেত্রে ভ্যাট কর্মকর্তা চুক্তিমূল্যের ওপর ভ্যাট আদায়ের রিটার্ন দাবি করছেন। আগ্রাবাদস্থ চট্টগ্রাম ডিভিশনের বিভিন্ন সার্কেলে প্রায় অর্ধসহ¯্র ব্যবসায়ী এ বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন এ পর্যন্ত। আইনী বাধ্যবাধকতার বিষয় বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন এসব ভ্যাট কর্মকর্তা।
এদিকে, এনবিআরের মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি বিভাগের এক বোর্ড সদস্য জানিয়েছেন, করোনার কারণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি দফতর সাধারণ ছুটির আওতায় রয়েছেন। কিন্তু ভ্যাট প্রদানকারী প্রত্যেক মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা গুণতে হবে। ফলে ভ্যাট সার্কেল অফিসগুলো রিটার্ন দাখিলের জন্য খোলা রাখা হয়েছিল।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












