১৩ মার্চ ২০২৬

মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ডিলার আটক, অভিযুক্ত আরও অনেকে

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি »

সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রিতে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য রাখা ও মজুদের অভিযোগে সন্দ্বীপে মো. রফিকুল ইসলাম নামে এক ডিলারকে আটক করা হয়েছে।

করোনা মহামারিতে হাপিত্যেশ চলছে পুরো সন্দ্বীজুড়ে। মূলভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে মালামাল পরিবহনে রয়েছে সমস্যা, চলছে অতিরিক্ত দামে পন্য বিক্রির সমারোহ।

এরই মধ্যে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অধীন কার্ডধারীদের মাঝে সরকার নির্ধারিত চাল বিক্রিতে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম, চাল কম দেয়া এবং অতিরিক্ত মূল্য রাখা সহ সমানতালে চলছে মজুদদারি। অভিযোগ উঠেছে বহু ডিলার ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

মগধরা ষোলশহর বাজার এলাকায় চাল কম দেয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্র লাল চাকমা। পরিদর্শন করেন স্থানীয় ডিলার রফিকুল ইসলামের গুদামে, উদ্ধার করা হয় ২২০ কেজি কর্মসূচিতে বরাদ্ধের চাল। অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সন্দ্বীপ থানায় মামলা দায়ের করেন ডিলার মো. রফিকুল ইসলামের নামে এবং থানা পুলিশ আটক করেন অভিযুক্ত ডিলারকে।

এদিকে, একই অভিযোগ উঠেছে সারিকাইত ইউপি সদস্য (২ নং ওয়ার্ড) ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসিফ মেম্বারের বিরুদ্ধে। আসিফ মেম্বারের নামে ডিলারশিপ নেই, রয়েছে তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার নামে।

অভিযোগ রয়েছে গত তিন বছর যাবৎ স্ত্রী ডিলারশিপে কার্ডধারীদের মাঝে অতিরিক্ত দামে কম চাল বিক্রি ও মজুদকৃত চাল খোলা বাজারে উর্ধমূল্যে বিক্রি করে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযো উঠেছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রবীন্দ্র লাল চাকমা বাংলাধারা’কে বলেন , ডিলার মো. রফিকুল ইসলাম কর্মসূচির আওতাধীন কার্ডধারীদের কাছ থেকে ৩০ কেজি চালের দাম নিয়ে ২৮ কেজি করে চাল দিতেন। এভাবে অনিয়ম আত্মসাতের মাধ্যমে মজুদকৃত ৯৩৮ কেজি চাল খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও অবৈধভাবে মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মগধরা ইউনিয়নের ষোলশহর বাজারে সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের কাছে চাল বিক্রি করেন। এপ্রিলে মাসে ৪৮৭ জন সুবিধাভোগীর জন্য খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ৮ টাকা ৫০ পয়সা কেজি দরে ১৪৬১০ কেজি চাল উত্তোলন করেন। কার্ডধারী সুবিধাভোগীর প্রতি ব্যক্তির কাছে কেজি প্রতি ১০ টাকা ধরে ৩০ কেজি চাল বিক্রির কথা থাকলেও ডিলার রফিকুল ৩০ কেজির দাম নিয়ে ২৮ কেজি করে চাল দিচ্ছিলেন।

তিনি আরও জানান, গুপ্তছড়া বাজার এলাকার আরেক ডিলার ও সারিকাইতের আসিফ মেম্বার ও তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা’র বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শরিফুল আলম বাংলাধারা’কে বলেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কর্মকর্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ডিলার রফিকুলকে আটক করেছি এবং মজুদ অতিরিক্ত খাদ্য জব্দ করেছি। তাকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। অভিযুক্ত অনান্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ