চট্টগ্রামের কাপ্তাই-রাঙ্গুনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়াচ্ছেন ফটোসাংবাদিক রেজাউল করিম। দীর্ঘ পঁচিশ বছরের পথচলায় মফস্বল প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করা এই মানুষটি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর অনুমোদিত ক্রিকেট ফটোগ্রাফার।
সম্প্রতি তিনি আরও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ফুটবল বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর অনুমোদিত ফটোগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি আয়োজিত উইমেনস এশিয়ান কাপে তিনি অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন, যা নিঃসন্দেহে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার জন্য গর্বের বিষয়।
এবারের এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ থেকে মাত্র তিনজন ফটোগ্রাফার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের একজন চট্টগ্রামের রেজাউল করিম। গ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ।
জানা গেছে, কাপ্তাই-রাঙ্গুনিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহের যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছিলেন, সেটিই তাঁর ভিত্তি। সীমিত সুযোগ, সীমাবদ্ধ প্রযুক্তি আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি থেমে যাননি। সংবাদপত্রের স্থানীয় প্রতিনিধি থেকে ধাপে ধাপে ক্রীড়া ফটোগ্রাফিতে নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন। মাঠের আলো-ছায়া, খেলোয়াড়দের আবেগ, বিজয়-পরাজয়ের মুহূর্ত সবকিছুকে ক্যামেরাবন্দী করার অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে দিয়েছে।
আইসিসি অনুমোদিত ক্রিকেট ফটোগ্রাফার হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ কাভার করার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। এখন ফুটবল বিশ্বেও সমান স্বীকৃতি। এটি তাঁর বহুমাত্রিক দক্ষতার প্রমাণ।
রেজাউল করিমের এই অর্জন তরুণ সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র ফটোসাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, পদবী নয়, পরিচয় নয়, অর্থ নয় মানুষ হিসেবে নিজের সাহস ও সততা দিয়ে তিনি নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছেন রেজাউল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের ক্যারিয়ার নিজেই গড়ে তোলার এই গল্প আমাদের শেখায়, স্বপ্ন দেখতে হয় এবং সেই স্বপ্ন পূরণে নিরন্তর পরিশ্রম করতে হয়।












