১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মব-অপহরণ-ব্ল্যাকমেইল: ডেমরায় আটক সংঘবদ্ধ চক্রের ৬ সদস্য

কখনো মব সৃষ্টি, কখনো অপহরণ, কখনো হানি ট্রাপে ফেলে নানা ধরনের অপকৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে আটক করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।

ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শামীমের তত্ত্বাবধানে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২ জনকে আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আস্তানায় অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রতারণার নানা কৌশলের কথা স্বীকার করেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের দুই সাংবাদিককে অপহরণ করে সারাদিন আটকে রেখে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আটক করে।

আটককৃতরা হলো বরগুনা সদরের শিয়ালিয়া গ্রামের সানু হাওলাদারের ছেলে শফিকুল ইসলাম শান্ত (৩৮), পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া তুলিয়া থানার চর চান্দুপাড়ার দ্বান্টু হাওলাদারের মেয়ে আক্তার সুমি (২০), একই জেলার গভাপাড়া নিগান বাড়িয়ার মৃত আলম হাওলাদারের ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩২), ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কপচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কালাম তালুকদারের ছেলে সজল তালুকদার (৩৮), রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার বুধছাড়া গ্রামের আলমগীরের মেয়ে দুলানী প্রেগ্রামীম (২০) এবং চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া রসুলবাগ আবাসিক এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে ইয়াছিন (৪৩)। আটককৃত ৬ জনকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিশাল এই চক্রটিকে আটকের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের বর্তমান উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আটককৃতরা কখনো মব সৃষ্টি করে, কখনো অপহরণ করে আবার কখনো হানি ট্রাপে ফেলে মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করত। এ ধরনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার মধ্যে গত রোববার ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি ৬ জনকে আগে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।

এ ছাড়া তারা ফেসবুক, ইমো ও টেলিগ্রামে রিয়েল সার্ভিস এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হানি ট্র্যাপে ফেলে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জার ভয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ না করায় চক্রটি অব্যাহতভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিল।

তিনি জানান, চক্রটি গত কয়েক মাসে অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার চাঁদাবাজি করত। প্রতিদিনই ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ আসে। ডেমরা জোনের চৌকস টিম বিশেষ কায়দা অবলম্বন করে শক্তিশালী এই দলের ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শামীম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত আছে। মূল হোতাদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, নানা কৌশল অবলম্বন করে চক্রটি তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে ১২-১৫ জন (পুরুষ-নারী) মিলে তাদের আটক করে মারধর করে এবং নারীকে পাশে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করে। এরপর নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাদের হুমকি দেওয়া হয় যে, ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সামি বলেন, ‘চক্রটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য মিলছে। ভুক্তভোগীরা সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অভিযোগ না করায় তারা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছিল। আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ