বাংলাধারা প্রতিবেদন »
জাইকার অর্থায়নে নির্মিত আগ্রাবাদ এক্সেস রোডটি প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে নামকরণ করা হবে। একইসাথে ওই রোডের সুবিধাজনক স্থানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
রোববার (১ ডিসেম্বর) নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে আয়োজিত মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষনা দেন।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন।
বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনূছের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা আহমেদুর রহমান ছিদ্দিকী। এতে আরো বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ।
এসময় নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে আলতাফ হোসেন বাচ্চু, বদিউল আলম, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন বাচ্চু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল হোসেন আবু, আরশেদুল আলম বাচ্চু, নুরুল আজিম রনি, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র নাছির চট্টগ্রামে বিজয় মেলার উদ্যোক্তা প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘৩১ বছর আগে শুরু হওয়া এই বিজয় মেলার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামবাসী মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাসের বদলে সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পেয়েছিল। দীর্ঘসময় ধরে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এই বিজয় মেলা হয়ে আসছিল। আমৃত্যু তিনি এই বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আমরা যারা উনার অনুসারী আছি, উনি যে মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করতেন, সেই মানসিকতা ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
অনুষ্ঠানে হাসিনা মহিউদ্দিন সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত বছর আমরা একবার মেলা করতে পারিনি, জাতীয় নির্বাচন বলে স্থগিত রেখেছিলাম। এবার আবার করছি। যতদিন এই বাংলাদেশ, এই চট্টগ্রাম, লাল-সবুজ থাকবে ততদিন আপনাদের বুকে মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকবেন। আপনাদের প্রমাণ করতে হবে বীর চট্টলার মাটি মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘাঁটি। এই প্রজন্মের অনেকে মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। ইতিহাস জানে না। স্মৃতিচারণার মঞ্চে এসে শহীদদের, আমাদের মা-বোনদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে শুনবেন। ইতিহাস জানলে নিজেরাই সর্তক ও সুন্দর হয়ে যাবেন।’
মাসব্যাপী মেলার মধ্যে ১০ ডিসেম্বর বিকেল তিনটায় নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বরে বিজয় শিখা প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সাত দিনের ‘মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠান। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এতে প্রধান অতিথি থাকবেন। বিজয় মঞ্চে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ১৫ ডিসেম্বর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিজয় মঞ্চে নাগরিক শোকসভা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।
১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বর থেকে বের হবে বিজয় র্যালি। এতে নেতৃত্ব দেবেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












