খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি »
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গাজিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ৪০ বিজিবির সিপাহি মোহাম্মদ শাওন (৩০), আলুটিলা বটতলী গ্রামের সাহাব মিয়া (৭০), তার ছেলে মো. আলী আকবর ও মো. আহাম্মদ আলী। আহত দুজন মো. মফিজ মিয়া (৫৫), মো. হানিফ চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাজিরহাট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুদ্দিন ভূঁইয়া সংঘর্ষে ৫ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহত বিজিবি সদস্যসহ দুজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। অন্য দুজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে আলুটিলা বটতলীর নিজ বাড়িতে স্ট্রোক করে সাহাব মিয়ার স্ত্রী রঞ্জু বেগম মারা যান বলে জানা গেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র শামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা।
এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি উত্তেজিত স্থানীয় গ্রামবাসীকে আশ্বাস দেন এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীকে বের করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি লাশ দাফন করার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নগদ বিশ হাজার টাকা করে ৫জনকে এক লাখ টাকা প্রদান করেন।
গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ারজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যে অপরাধী তার বিচার করা হবে কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। গ্রামবাসী বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবি করলে তিনি বলেন, গুটি কয়েক খারাপ মানুষের জন্য একটি বাহিনীকে দোষারোপ করা যাবে না। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের বিচার করা হবে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












