সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার»
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আনোয়ার হোসেন সরকার বলেছেন, বন্যপ্রাণী ও বন্যহাতি সংরক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বিচারে বন্যপ্রাণী হত্যা, ধরা এবং শিকার করা দন্ডনীয় অপরাধ। বন্য হাতিদের আঘাত করে নিধন করলে প্রকৃতির ভারসাম্যে বিরাট প্রভাব ফেলবে। ‘মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে’ সবার শপথ নেয়ার সময় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন রামুর জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের উদ্যোগে ‘মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসন’ শীর্ষক ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং বনসম্পদ রক্ষাকল্পে জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএফও মো. আনোয়ার হোসেন সরকার এসব কথা বলেছেন।
ডিএফও আরো বলেন, সামাজিকভাবে সচেতন হয়ে মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসন করতে হবে। বন্যপ্রাণী ও হাতিদের বাঁচাতে এগিয়ে আসার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বন সম্পদ রক্ষার্থেও। বন্যহাতি লোকালয়ে চলে এলে বন বিভাগকে অবগত করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোন ভাবেই যেন হাতিকে আক্রমণ করা না হয়।
সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়ে ডিএফও বলেন, বন্য হাতি, বন্যপ্রাণী , বনজদ্রব্য, বনভূমি রক্ষার্থে বন বিভাগ সজাগ রয়েছেন। বনজসম্পদ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং বনভূমি জবরদখলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মানুষ ও হাতির সংঘাত নিরসন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
ব্যাংডেবা বিটের বিট কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ড. প্রান্তোষ চন্দ্র্র রায়ের সভাপতিত্বে সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জোয়ারিয়ানালার রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল সামসুদ্দীন প্রিন্স। সভাপতির বক্তব্যে এসিএফ ড. প্রান্তোষ চন্দ্র রায় বলেন, বন বিভাগ বন্যহাতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্যহাতি কর্তৃক কারো প্রাণহানি ঘটলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাসহ স্থানীয় কোন ব্যক্তির ফসল নষ্ট করলেও ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীকে সচেতন এবং ধৈর্য্য ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, সরকারি বনভূমি জবরদখলমুক্ত, বন্যপ্রাণী, ও বন্যহাতি সংরক্ষণ এবং বনজসম্পদ রক্ষায় সবার সার্বিক সহযোগিতা দরকার। এতে জীব বৈচিত্র রক্ষা সহজ হবে।
সভায় জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের ব্যাংডোবা বিটের দেড় শতাধিক নারী পুরুষ, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ বনবিভাগের ফরেস্টারসহ ভিলেজারগন উপস্থিত ছিলেন। সভায় ‘মানুষ-হাতি সংঘাত নিরসন এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণে’ সহযোগিতার শপথ নেন উপস্থিত এলাকাবাসী।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












