২৭ মার্চ ২০২৬

মিতুকে হত্যার পর তিন বিয়ে ও একাধিক নারীর সাথে পরকিয়া ছিল বাবুল আকতারের

বাংলাধারা ডেস্ক:::

মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর আরও তিনটি বিয়ে করেন তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। এর মধ্যে দুজনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে, বর্তমানে একজনের সঙ্গে সংসার করছিলেন তিনি।

মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ বুধবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘মিতু মারা যাওয়ার আগে বাবুলের সঙ্গে গায়ত্রী অমর সিং নামে ভারতের এক নারীর সম্পর্ক ছিল। পরে মিতু সেটা জেনে যায়। শুধু গায়ত্রী নারী নয়, আরও কয়েক জনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যাদের মধ্যে তিন জনকে মিতুর মৃত্যুর পর সে বিয়ে করেছে।’

মিতুর মা জানান, মিতু মারা যাওয়ার পর বাবুল যেভাবে ভেঙে পড়ার অভিনয় করে তাতে আমরাও দুঃখ প্রকাশ করি। তবে তার সব অভিনয়ই আস্তে আস্তে ফাঁস হয়ে যায়। কারণ মিতু মারা যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে বাবুল এক মেয়েকে বিয়ে করে। তার সঙ্গে ঢাকার মগবাজারে আড়াই বছর সংসার করে। এরপর মেয়েটি তাকে ছেড়ে চলে যায়।

শাহিদা মোশাররফ বলেন, ‘এরপর বাবুলের সঙ্গে খুলনার এক মেয়ের বিয়ে হয়। তাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে ভাড়া তিনমাস ভাড়া থাকে বাবুল। এরপর সেই মেয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘মিতুর মৃত্যুর পর দুই বিয়ে করেও ক্ষ্যান্ত হয়নি বাবুল। কয়েকমাস আগে সে কুমিল্লার এক প্রকৌশলীর স্ত্রীকে বিয়ে করে। বর্তমানে তার সঙ্গে সংসার করছিল মোহাম্মদপুরে বাসায় থেকে।’

শাহিদা মোশাররফ জানান, এ ছাড়াও বাবুল আক্তারের সঙ্গে ঝিনাইদহের এক এসআইয়ের স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। তা ছাড়া বাবুল তার নিজের শালি মিতুর ছোটবোনের দিকেও কুনজর দেয়। পরে পারিবারিকভাবে তার সমাধান করা হয়।

শাহিদা বলেন, ‘সব জেনে শুনেও মিতুর ছোট দুই বাচ্চার কথা ভেবে এতদিন কিছু বলিনি। তবে আমার দুই নাতি-নাতনিকেও আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বাবুল। তাদেরকে আমাদের জিম্মায় দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করি।’

এ সময় দেশের মিডিয়া ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিতুর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের বিচারের জন্য পুলিশ ও মিডিয়া যেভাবে কাজ করছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি, আদালতে আমার মেয়ের প্রকৃত খুনি শনাক্ত হবে এবং তার উপযুক্ত শাস্তি হবে।’

এদিকে মিতুর বাবার দায়ের করা এই মামলায় বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। মো. মোশারফ হোসেন তার মামলায় বাবুল আক্তার ছাড়াও সাতজনকে আসামি করেছেন।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মিতু হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এর আগে সেটি নগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করেছিল। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলা তদন্তের ভার পিবিআইকে দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ছুরিকাঘাত ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। ঘটনার পর বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।

খবর : দৈনিক সমকাল

বাংলাধারা/এআই

আরও পড়ুন