বাংলাধারা প্রতিবেদক »
মিথ্যা তথ্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনের অপরাধে ইলেকট্রনিক নিউজ মিডিয়া দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ চারজনের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালতের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির এ আদেশ দেন।
এসময় আদালতের পিপিসহ কমপক্ষে ৩৫/৩৬ জন কৌঁসুলি এ জামিন আবদনের শুনানীতে অংশ নেন। আদালত দীর্ঘ সময়ের শুনানি শেষে মামলার এজাহারে ও চার্জসিটে সন্নিবেশিত উপস্থিত চারজনকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।কিন্তু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের ঠিক আগ মুহুর্তে বিশেষ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসানকে জামিন প্রদান করেন আদালত।
২০১৬ সালের ১৬ মার্চ ও ২২ মার্চ রাত ১১টায় চট্টগ্রামের চকবাজারের জয়নগরস্থ ২নং লেনের বাসায় ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম দীপ্ত টেরিভিশনে এ সংবাদটি দেখতে পান। এ ঘটনায় ২০০৬ এর তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার ব্যতয় ঘটিয়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলা দায়ের হয়েছিল ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল। ইলেকট্রনিক মিডিয়া দীপ্ত টেলিভিশনে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানের আরো ৩ জনের নাম উল্ল্যেখ করে মোট ৭জনের বিরুদ্ধে চার্জসিট জমা দেন আদালতে। বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই মামলাটি চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সানোয়ারা গ্রুপ অব কোম্পানী দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রী ব্যবসা করে আসছে। ২০১৬ সালের ১৬ ও ২২ মার্চ তারিখে রাত ১১টার সময় দীপ্ত টেলিভিশনে ‘চট্টগ্রামে কাজী ফার্মে কর্মীদের উপর হামলা’ শীর্ষক একটি সংবাদ দেখতে পান মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি ছিলেন সানোয়ারা পোল্ট্রী ও হ্যাচারী লি. এর ব্যবস্থাপক।
এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের কারনে তিনি চট্টগ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৩০ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি আদালতের নির্দেশে চকবাজার থানার ওসিকে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে ঢাকার তেঁজগাও শিল্প এলাকার দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, চীফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফী আহম্মদ ও চট্টগ্রাম প্রতিনিধি রুনা আনসারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহম্মেদ থানায় এ মামলা নথিভুক্ত করেন।
প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা দায়রা ও জজ আদালতের এজলাসে সানোয়ারা গ্রুপ বনাম কাজী ফার্মের মামলার জামিন আবেদন শুনানী শুরু হয়। বাদী পক্ষে এডভোকেট ও পিপি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এবং বিবাদী পক্ষে এডভোকেট এহসানুল হক বাবুলসহ প্রায় ৩৫/৪০ জন সঙ্গীয় কৌসুলীরা এ শুনানীতে অংশ নেয়। দীর্ঘ সময়ের শুনানী শেষে সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির আদালতের কাঠগড়ায় দাড়িয়ে থাকা দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, চীফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফী আহম্মদসহ ৪ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এদিকে, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দীপ্ত টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসানকে জামিন দেয়া হয়। কোর্ট হাজত থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রিজনার্স ভ্যানে করে পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, চীফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফী আহম্মদসহ তিন জনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, এই তিন আসামিকে জামিনে মুক্ত করতে মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে আবারও আদালতে জামিন শুনানী হতে পারে। অপরদিকে মামলার অপর আসামী ও দীপ্ত টেলিভিশনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি রুনা আনসারী হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার পর সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালতে হাজির হয়ে কয়েকদিন আগেই জামিন নিয়েছেন।












